প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রতিবন্ধী ছেলেকে জেল থেকে ছাড়ানোর নামে টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকি: জগন্নাথপুরে মায়ের আহাজারি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সুমন মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক অসহায় মায়ের কাছ থেকে তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে কারামুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সিতারা বেগম (৫০) এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২নং পাটলী ইউনিয়নের শাসন গ্রামের বাসিন্দা সিতারা বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলে মোঃ সায়েস্তা মিয়া একটি মামলায় কারাগারে গেলে একই ইউনিয়নের সাচায়ানী গ্রামের মৃত আয়াজ উল্লাহর ছেলে, স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ নুরুল ইসলাম তাকে দ্রুত মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় এক সাংবাদিক তৈয়বুর রহমান, যিনি নিজেকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
সিতারা বেগম অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন—তার ছেলের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি হতে পারে, এমনকি ফাঁসির আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় তারা মুক্তির ব্যবস্থা করার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। অসহায় মা নিজের পালিত প্রায় আড়াইশ হাঁস বিক্রি করে দুই দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা নুরুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। বিনিময়ে ১৫ দিনের মধ্যে ছেলেকে জেল থেকে মুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সিতারা বেগম বাধ্য হয়ে গরু বিক্রি ও বসতবাড়ি বন্ধক রেখে অন্য মাধ্যমে তার ছেলেকে জামিনে মুক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন।
গত ২২ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নুরুল ইসলাম সিতারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং পুনরায় টাকা দাবি করলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে সিতারা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook-এ লাইভে এসে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “হাঁস-গরু বিক্রি করে যে টাকা দিয়েছি, তা হারিয়ে এখন সন্তানদের জীবন নিয়েই আতঙ্কে আছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “টাকা লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা কাউকে হুমকি দেইনি।”
অন্যদিকে তৈয়বুর রহমান দাবি করেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং কোনো টাকা লেনদেনের বিষয়েও জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিতারা বেগম নামে এক নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।