প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
কানাইঘাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ: স্বামী পলাতক, শিশুকে বাথরুমে আটকে রাখার অভিযোগে চাঞ্চল্য
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপ্রসাদ গ্রামে জোনাকী বালা দাস (২৬) নামের এক নারীকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সজল দাসের বিরুদ্ধে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী সজল দাসসহ তার পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যায়, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
নিহত জোনাকী বালা দাস গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ণ্য পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রানু চন্দ্র দাসের মেয়ে। ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্বামীর বাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে ‘গলায় ফাঁস’ বলে চালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তেমন কোনো আত্মহত্যার আলামত পায়নি। বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার সময় জোনাকীর ৬ বছর বয়সী শিশু পুত্র আর্য্য দাস বাড়িতেই ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল—যা হত্যার ঘটনাকে আরও নির্মম ও পরিকল্পিত হিসেবে নির্দেশ করে। বর্তমানে শিশুটি তার নানার বাড়িতে অবস্থান করছে।
শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে জোনাকীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ গোয়াইনঘাটে বাবার বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। সেখানেই হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।