প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
গোলাপগঞ্জে ওসির সহায়তায় মাটিখেকো চক্রের দাপট: ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা-এর বাঘা ইউনিয়নে চিহ্নিত মাটিখেকো সাবুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাটি কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একটি অংশকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশা-পাশি গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবুল গং দীর্ঘদিন ধরে নদীপাড়ের উর্বর ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা করা হলে কিছুদিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবারও শুরু হয় একই কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা পুনরায় মাটি কাটা শুরু করেছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের নজর এড়াতে মাটিখেকো চক্রটি দিনের বেলা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। তবে রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এক্সকাভেটর (এক্সেলেটর) ব্যবহার করে চলে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে করে ফসলী জমি ধ্বংসের পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাটও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের এখলাছপুর গ্রামের অভিযুক্ত সাবুল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “বর্তমানে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। তবে ওসি ও মুন্সী স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা ম্যানেজ করা হয়েছে, বাড়ির ভিটা ভরাটের জন্য।” একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান।
অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।