প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
জগন্নাথপুরে জোরপূর্বক বাড়ী দখল করতে সশস্ত্র ভূমিখেকোদের হামলা, নগদ টাকা স্বর্নালংকার লুটপাট, ভাংচুর নারী-পুরুষ সহ আহত-৭ —থানায় অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইছাকপুর গ্রামে সংঘবদ্ধ ও পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী-পুরষসহ ৭ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়িতে ঢুকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী একটি ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ইং রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, লোহার পাইপ, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ঘরের নারী সদস্যদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার আরও ভয়াবহ দিক হলো—হামলাকারীরা শুধু হামলাতেই থেমে থাকেনি; তারা ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়, যাহার বর্তমান বাজার মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগ—অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া আচরণ করে আসছে।
আইনজীবীদের মতে, এই ঘটনায় বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী একাধিক গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যেমন—দণ্ডবিধির ধারা: ১৪৭/১৪৮/১৪৯ সংঘবদ্ধ দাঙ্গা ও মারামারি, ধারা:৩২৩/৩২৫/৩২৬ আঘাত ও গুরুতর জখম, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ৩০৭ ধারা: হত্যার চেষ্টা,৩৭৯/৩৮০ ধারা: চুরি ও গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে চুরি,৪২৭ ধারা: সম্পত্তির ক্ষতিসাধন,৪৫২ ধারা: অস্ত্রসহ গৃহে অনধিকার প্রবেশ,প্রয়োজনে ৩৪ ধারা (সম্মিলিত অপরাধ সংঘটন)ও যুক্ত হতে পারে। এছাড়া নারী নির্যাতনের সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের ধারা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলেই এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আহতদের পক্ষে সোনারা বেগমের মেয়ে রিনা বেগম বাদী হয়ে ১৪ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আসামীরা হলেন(১)মো: সাজাদ আলী, (২)মো: বাদশা মিয়া, (৩)মো: মুন্না মিয়া, (৪)মো: আকরাম আলী, (৫)মো: হাছন আলী, (৬)মো: লুৎফুর মিয়া, (৭)মো: কিবরিয়া মিয়া, (৮)মো: হুসন আলী, (৯)মো: রুশন আলী, (১০)মো: আলাউর রহমান, (১১)মো: আতাউর রহমান,(১২)মোছা: রাশেদা বেগম,(১৩)মোছা: ফুলতেরা বেগম,(১৪)মোছা: আয়শা বেগম। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন সাজাদগংরা বার বার আমাদের ঘরে এসে হামলা করে রক্তাক্ত করলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই, গত ১৬ /০২/২০২৬ ইং তারিখে হামলা করে কয়েকজনকে আহত এবং নারীদের শ্লীলতাহানী করে এরপর জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তারা মামলা রেকড করেনি, পরবর্তীতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করি। সেই মামলা করার পর ভূমিখেকোচক্র এখন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে।
জগন্নাথপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তারা আশ্বাস দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।