প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
জগন্নাথপুরে বিএনপি নেতা রাজন মিয়ার বিরুদ্ধে গোয়ালঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ: আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বসতবাড়ির গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে বিএনপি নেতা রাজন মিয়া সহ কয়েকজন দুস্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান- কিশোরগ্যাং এর সদস্য বিএনপি নামধারী রাজন মিয়ার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা সুহেল আহমদ তালুকদারের বসতবাড়ির পশ্চিম ভিটায় থাকা গোয়ালঘরে গত ৫ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের বাসিন্দা রাজন মিয়া (৪৩), লিপন মিয়া (৪৫), আব্দুল জাহির (৪৫), আব্দুল বাছিত (৪২) ও রাহিম মিয়া (২৫)কে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় সুহেল আহমদের বাড়ির কাজের লোক মনছুর মিয়া গোয়ালঘরের একটি অংশে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে দুটি অস্ট্রেলিয়ান গাভী ও দুটি বাছুর বাঁধা ছিল। রাতের দিকে মানুষের নড়াচড়া টের পেয়ে মনছুর মিয়ার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, অভিযুক্ত রাজন মিয়া ও আব্দুল বাছিত প্লাস্টিকের কন্টিনার থেকে পেট্রোল ছিটিয়ে টিনের ছাউনি অংশে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মনছুর মিয়া দ্রুত গাভী ও বাছুরগুলোর রশি খুলে বাইরে বের করে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামবাসী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আগুনে গোয়ালঘরের টিন, কাঠের বর্গা এবং মনছুর মিয়ার ব্যবহৃত লেপ-তোষক পুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এঘটনার জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগুনের আলো ও টর্চলাইটের আলোতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং সাক্ষীরা বিষয়টি প্রমাণ করবেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্ত রাজন তালুকদার বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এই এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন খেলাধুলার অজুহাতে সে এলাকার প্রবাসীদের কাছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ষড়যন্ত্র করে হামলা মামলা দিয়ে হয়রানী করে। তার অত্যাচার থেকে বাদ যাচ্ছেনা বিএনপির পরিবারের সদস্যরাও। এছাড়াও এলাকার ছোট ছোট কোমলমতি কিশোরদের দিয়ে সে গড়ে তুলেছে বিশাল কিশোর গ্যাং।অবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমার ব্যাপারে আনিত এসব অভিযোগ সত্য নয়- সুষ্ঠু তদন্ত হলে সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।