প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার তাৎক্ষণিক অভিযানে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রসহ অপহরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রবাসীসহ দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪–১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তচক্র জোরপূর্বক অপহরণ করে। অপহরণের পর তাকে তাঁতিপাড়াস্থ নাজমা নিবাস নামীয় ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়।
সেখানে তাকে ধারালো চাকু ও কেচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এমনকি ভিকটিমের পরিহিত কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে ভিকটিম বিষয়টি থানায় অবহিত করলে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির-এর নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে তাঁতিপাড়াস্থ নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—১। তানজিম মাহবুব নিশান (২১) পিতা- মোঃ সেলিম আহমদ, মাতা- জানাত আরা নাজু, সাং-গোটাটিকর, থানা-মোগলাবাজার, জেলা-সিলেট, ২। আহসান হাবিব মুন্না (১৯) পিতা- মোঃ মোক্তাদির, মাতা- রনি বেগম, সাং-বাসা নং-১৫, ব্লক-বি, রোড নং-১৫, শাহজালাল উপশহর, থানা- শাহপরাণ (রহঃ), জেলা-সিলেট, ৩। জুবাইন আহমদ (১৯) পিতা- মোঃ ফয়জুল করিম, মাতা- মোছাঃ শেফা বেগম, সাং-মন্ডলপুর, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমানে-৫৬, হাওয়াপাড়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-সিলেট, ৪। সুফিয়ান আহমদ (১৯) পিতা-আব্দুল মন্নান, মাতা-আসমা খানম, সাং-আমানতপুর, থানা-জালালাবাদ, জেলা-সিলেট, বর্তমানে- শিবগঞ্জ লামাপাড়া, বাসা নং-মোহিনী-১০২/৩০, থানা-শাহপরাণ (রহঃ), জেলা-সিলেট, ৫। মোঃ জাকির হোসেন (১৯) পিতা- মোঃ আনোয়ার মিয়া, মাতা- রোকেয়া বেগম, সাং-বাসা নং-৬৪/১, চৌকিদেখী, থানা- এয়ারপোর্ট, জেলা-সিলেট, ৬। মোঃ মারজান (১৯) পিতা- আবুল হোসেন, মাতা- শেওলা বেগম, সাং-বিহঙ্গ-৭০, কাজীটুলা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-সিলেট, ৭। মোসাদ্দেক আলী (১৮) পিতা- মোঃ সুজন মিয়া, মাতা- মোছাঃ স্বপ্না বেগম, সাং-রায়সত্তরপুর, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ, বর্তমানে-বর্ণী-৪২, হাউজিং স্টেট, থানা-এয়ারপোর্ট, জেলা-সিলেট, ৮। ফারদিন আহমদ (১৮) পিতা-রুমান আহমদ, মাতা-মুন্নি আক্তার, সাং-বাসা নং-দিশারী-৮১, হাওয়াপাড়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-সিলেট, ৯। জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) পিতা- মোঃ রতন, মাতা- কবিতা বেগম, সাং-মজুমদারপাড়া, শিবগঞ্জ, থানা-শাহপরাণ (রহঃ), জেলা-সিলেট, ১০। মিজান আহমদ (১৮) পিতা-মানিক মিয়া, মাতা- জ্যোস্না বেগম, সাং-দিশারী-৪৪, হাওয়াপাড়া, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-সিলেটদেরকে আটক করা হয়, অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে অপর এক প্রবাসী ভিকটিম জাহিদ আহমদ (৪২)-কে উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুই ভিকটিমের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং অপহরণ ও নির্যাতনে ব্যবহৃত চাকু, কেচি ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।