প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫
দক্ষিণ সুরমায় জামায়াত নেতার কব্জায় এতিম পরিবারের জমি-সম্পদ: অভিযোগ ও তদন্ত
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিলেট অডিশন ডেস্ক:: সিলেট — দক্ষিণ সুরমার দাউদপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে স্থানীয় জামায়াত নেতা আপ্তাবুল ইসলাম (প্রতিপক্ষ বলছে ‘জবর’)কে আটক করে মাটি-সম্পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে। মৃত ভাই নুরুল ইসলামের (ইছন মিয়া) পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকে, পরিবারের ঘরবাড়ি ও ৭৭ শতক জমি জবরের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে—অভিযোগকারীর দাবি।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী রাহেনা বেগম ২৭ আগস্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার পর থেকেই জবর দখলের চেষ্টা শুরু করেন; আর সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর দলবল নিয়ে ওই ৭৭ শতক জমি দখল করেন। অভিযোগ আছে—জবর জমিতে লোক দিয়ে ধান লাগিয়ে দিয়েছেন এবং বাড়ি-ঘরও দখলের চেষ্টা করছেন। জমি-দখলকার্যে জবর নিজের রাজনৈতিক–প্রভাব ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আব্দুল মুমিন ফয়েজ (নিহত নুরুল ইসলামের বড় ছেলে)—যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে—বলেছেন, তাদের সম্পত্তি দীর্ঘদিন জবরের লক্ষ্য ছিল। পরিবারের অনুপস্থিতি বাস্তবে যাওয়ার পরই জবর সুযোগ নিয়ে দখল শুরু করেছে। তিনি গোলাপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসেও আবেদন করেছেন। তদন্তে নামে পুলিশ; গোলাপগঞ্জ থানার এসআই আনন্দ চন্দ্র সরেজমিনে গিয়ে দখলের সত্যতা পেয়েছেন এবং মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
স্থানীয় বর্গা চাষি কামিল মিয়া বলেন, তিনি গত ১৫–১৬ বছর ধরে সেই জমি চাষ করে আসছিলেন এবং জমির মালিক নুরুল ইসলাম ছিলেন—তাই তিনি ধান কেটে পরিবারকে দিতেন। কিন্তু ফয়েজদের মা দেশ ত্যাগ করার পর জবর চাষি ও তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং নিজের লোক দিয়ে জমিতে ধান লাগিয়ে দেন। চাষি জানিয়েছেন, ঝামেলা বাড়ায় তিনি আর চাষ চালাবেন না।
প্রতিপক্ষ জবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমি আমার—পর্চায় আমার নাম আছে; দখল করেছি, তো কী করবেন?” তবে থানায় দুইবার ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি এবং কোনো আইনি দলিল জমা দিতে পারেননি—পুলিশের দাবি।
জবরের বড় ভাই নাজমুল ইসলাম বলছেন, জবর পারিবারিক সম্পত্তি নিজের করতে চায় এবং পরিবারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অন্য দুই ভাই—সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম (চান মিয়া)—মরহুমের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও জবর তাদেরও হুমকি দিয়ে মীমাংসা করাতে চাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জামায়াতের আমির লোকমান আহমদ জানান, তারা অভিযোগটি তদন্ত করছে এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে দলের পক্ষ থেকে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি এটিকে পারিবারিক বিবাদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন—দলীয় কোন বিধি ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ পেয়েছে এবং মামলা-মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ফয়েজ পরিবার বর্তমানে বাড়ি-ঘর ও জমি হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন। তারা প্রত্যাশা করছেন—আইনি পথে বিচারসূত্রে দখলকৃত সম্পত্তি ফিরে পাবে।
মন্তব্য: ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক–অভিরুচির ছোঁয়া রয়েছে—প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নির্ধারণ করবে কে আদৌ আইনগত মালিক।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।