প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে ‘প্রয়াস’ এনজিওর নামে প্রতারণা গ্রাহকের ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও তিন কর্মকর্তা, আইনি ব্যবস্থা দাবি
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকায় “প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি” নামের একটি এনজিওর আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জালালপুর ও সিলাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় ও জামানতের নামে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করে হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে সংস্থাটির তিন কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জালালপুর বাজারের কলেজ রোডে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে “প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি” নামে কার্যক্রম শুরু করেন মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে সংস্থাটির অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। অফিসে সাইনবোর্ড টানিয়ে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে দ্রুত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সমিতি গঠন এবং সদস্য সংগ্রহ শুরু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সদস্যভুক্তির নামে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা ভর্তি ফি এবং লাখ টাকা ঋণ প্রদানের শর্ত হিসেবে জামানত বাবদ আরও ৭ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এভাবে মাত্র দুই সপ্তাহে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
গ্রাহকদের জানানো হয়, ৪ মার্চ বুধবার বিকেল ৩টায় ২০ জন সদস্যকে মোট ২৪ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিন ও সময় অনুযায়ী অনেক গ্রাহক টাকা গ্রহণের জন্য জালালপুর কলেজ রোডের অফিসে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান অফিসের বাইরে তালা ঝুলছে এবং ভেতরে কেউ নেই।
পরে ভবনের মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তাদের সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি এবং যেদিন চুক্তি করার কথা সেদিন দুপুর ১২টার পর থেকেই অফিসে তালা ঝুলছে। এরপর থেকে সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভিজিটিং কার্ডে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে করে গ্রাহকেরা বুঝতে পারেন তারা একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে প্রতারিত গ্রাহকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিবন্ধন বা অনুমোদন যাচাই না করেই প্রকাশ্যে এনজিওর সাইনবোর্ড টানিয়ে গ্রামাঞ্চলে সদস্য সংগ্রহ ও টাকা আদায়ের মতো কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ছিল না। ফলে সহজেই প্রতারক চক্রটি দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, এ ঘটনায় একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা করা যেতে পারে। যেমন—বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪২০ ধারা : প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ। ৪০৬ ধারা : আমানতের অর্থ আত্মসাৎ বা বিশ্বাসভঙ্গ। ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা : জালিয়াতি বা ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ, ঋণের আশায় গ্রামের অসহায় মানুষ তাদের শেষ সঞ্চয় ও ধার করা টাকা জমা দিয়েছিলেন। এখন প্রতারকদের খোঁজ না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।