উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সরকারি খাস জমি ও লিজ দেওয়া চা বাগানের ভূমি দখল করে অবৈধভাবে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত শাহ পরান থানা ও বিমানবন্দর থানা এলাকার বহর মৌজা (জে.এল নং ৭০) এবং খাদিমনগর মৌজা (জে.এল নং ৭১) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই দখল-বাণিজ্য চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের হাজার কোটি টাকার খাস জমি ও বন্দোবস্ত/লিজ দেওয়া চা বাগানের জায়গা পরিকল্পিতভাবে জবরদখল করে সেখানে টিলা কেটে প্লট তৈরি করা হচ্ছে। বন-পাহাড় উজাড় করে নির্মাণ করা হচ্ছে টিনশেড ও ফাঁকা ওয়ালের ভবন। এমনকি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে প্লট ক্রয়-বিক্রয়ও চলছে প্রকাশ্যে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বি.আই.ডি.সি বহর কলোনির পশ্চিম-উত্তর প্রান্ত থেকে মিন্টু মোড়া এলাকা, পুকুরপাড় হয়ে উসমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অবৈধ দখল কার্যক্রম এখন জমজমাট ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই রাতারাতি বসতি স্থাপন ও স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটছে।
এ ঘটনায় মৃত নামর আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মানিক মিয়া, কামাল উদ্দিন (কামাল), আক্কাস আলী, সুজন মিয়া, আমিনুর রহমানসহ একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তারা নিজেদের আর্থিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সরকারি খাস জমি, লিজ দেওয়া চা বাগানের ভূমি এবং পতিত জমি দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা ছিল সাময়িক। অভিযানের পর কিছুদিন স্থবির থাকলেও পুনরায় শুরু হয়েছে দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম। প্রশাসনের কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের অভাবে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি খাস জমি ও লিজকৃত চা বাগানের ভূমিতে প্রকাশ্যে পাহাড়-টিলা কেটে স্থাপনা নির্মাণ ও বেচাকেনা চললেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড, ইউএনও ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের নীরবতায় প্রভাবশালী চক্র আরও সংগঠিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত অভিযান, দখলদারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় খাদিমনগর অঞ্চলের পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।