প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
সিসিক'র ট্রেড লাইসেন্স শাখার সাবেক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’—কোটি টাকার সম্পদ, জাল লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখায় দায়িত্ব পালনকালে সাবেক লাইসেন্স কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের বিস্ফোরক অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে তিনি লাইসেন্স শাখাকে ব্যক্তিগত আয়ের খনিতে পরিণত করেছিলেন।
জানা যায়, কর আদায় শাখায় আদায়কারী হিসেবে চাকরি শুরু করলেও তদবির ও বিশেষ মহলের প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স শাখায় পরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব নেন আসাদুজ্জামান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উত্থান। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেড লাইসেন্সের বকেয়া টাকা নগদে গ্রহণ করে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সিল মেরে লাইসেন্স ইস্যু করতেন তিনি।
তৎকালীন সময়ে লাইসেন্স শাখায় অনলাইন কার্যক্রম না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া ছিল কাগজনির্ভর। সেই দুর্বলতাকেই ঢাল বানিয়ে গড়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির সিন্ডিকেট। প্রতিটি নিবন্ধনের ফি ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও প্রকৃত অঙ্কের বড় অংশই যেত ‘অদৃশ্য খাতে’—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব পাওয়ার পর রাতারাতি বদলে যায় আসাদুজ্জামানের জীবনযাপন। নগরীর বাগবাড়ী এলাকায় একাধিক প্লট, দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, এবং পরিবারসহ নিয়মিত ইউরোপ ভ্রমণ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার আয়ের উৎস নিয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি চাকরির সীমিত বেতনে এত সম্পদ অর্জন “আলাদিনের চেরাগ ছাড়া সম্ভব নয়”।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রেড লাইসেন্স শাখা থেকে সরিয়ে অন্য শাখায় বদলি করে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু বদলি কি যথেষ্ট? অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত কিংবা দুদকের অনুসন্ধান হয়নি কেন?
সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট সময়ের সব ট্রেড লাইসেন্স পুনঃনিরীক্ষা করা হোক নগদ লেনদেনের হিসাব নিরীক্ষা করে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হোক, অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা সময়ের দাবী।
এর আগে স্থানীয় একটি দৈনিকে আসাদুজ্জামানের দূর্ণীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি।
সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব খাতে সম্ভাব্য কোটি কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির এই ‘বরপুত্র’দের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সিটি কর্পোরেশনের সেবাব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও ভেঙে পড়বে—এমনটাই বলছেন নগরবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।