প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫
জামালগঞ্জে সংঘর্ষে যুবক খুন, লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা
সিলেট এডিশন ডেস্ক
মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের ছোট ভাই সেজাব হোসেন ওরফে কালা মিয়া (৩৫) খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে চরম অবিশ্বাস ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ও প্রতিপক্ষ আব্দুল মতিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে সংঘর্ষে নিহত হন কালা মিয়া। পরে নিহতের স্ত্রী মোছা. সুলেমা খাতুন বাদী হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর জামালগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামিরা এখনও পলাতক। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করছেন— আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন কৌশলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। নিহতের পরিবার দাবি করছে, সোফায়েল, জুয়েল, আব্দুল্লাহ ও মতাকাব্বির পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের স্ত্রী সুলেমা খাতুন বলেন, “আমি দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায়। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।” তাঁর ছয় বছরের ছেলে সাদমানও বাবার খুনিদের শাস্তি দাবি করে।
ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের মামলার আসামিদের এখনও ধরা হয়নি। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও নিহতের খালাতো ভাই হাজী ইখতিয়ার উদ্দিন অভিযোগ করেন, খুনের পর আসামিপক্ষ নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে বাদী পক্ষের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “একটি প্রভাবশালী চক্র ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
একই অভিযোগ তুলে নিহতের আরেক স্বজন আশরাফ হোসেন সিদ্দিকী রুপন বলেন, “আমাদের কাছে ভিডিও প্রমাণ আছে যে, তারা নিজেরাই মালামাল সরিয়েছে। অথচ দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর। আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের নারীরা অভিযোগ করেছেন, বাদী পক্ষ খুনের পর তাদের ঘরে হামলা চালিয়েছে ও আসবাবপত্র লুট করেছে। তারা প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কালা মিয়ার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো গ্রামকে শোকে আচ্ছন্ন করেছে। দুই শিশু সন্তান এখনো বাবাকে খুঁজে ফেরে, আর স্ত্রীর আহাজারিতে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। লুটপাটের অভিযোগও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।”
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।