প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওসমানীনগরে ইতিহাসের সাক্ষী: ৮০০ বছরের প্রাচীন উছমানপুর ‘গায়েবী মসজিদ’
সিলেট এডিশন ডেস্ক
ইব্রাহীম খান ইমন,ওসমানীনগর (সিলেট)প্রতিনিধি:: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়ন এর উছমানপুর গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য—উছমানপুর গায়েবী মসজিদ। তাজপুর-বালাগঞ্জ রোডের পাশেই অবস্থিত এই মসজিদটি বর্তমানে ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্থানীয় জনশ্রুতি ও বিভিন্ন ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্থাপনাটি প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ বছরের পুরনো। লোকমুখে এটি ‘গায়েবী মসজিদ’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে আধ্যাত্মিক ইতিহাস। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত ওসমান বাগদাদী (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে আসার পর মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাঁর নামানুসারেই ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণ হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়।
স্থাপত্য শৈলী ও বৈশিষ্ট্য
সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটির উপরিভাগে একটি বড় গম্বুজ রয়েছে, যা প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে। যদিও সময়ের বিবর্তনে এবং সংস্কারের অভাবে মূল কাঠামোর অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে, তবুও এর প্রাচীন দেওয়াল ও নির্মাণ কৌশল পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি প্রশস্ত পথ, যা সহজে যাতায়াতের জন্য দর্শনার্থীদের সাহায্য করে।
স্থানীয়দের অভিমত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা মসজিদটিকে এভাবেই দেখে আসছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে এবং এই ঐতিহাসিক নির্দশন দেখতে আসেন। তবে ঐতিহাসিক এই সম্পদটি টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে আরও রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ঐতিহাসিকরা একমত যে, উছমানপুর গায়েবী মসজিদটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি সিলেটের সমৃদ্ধ মুসলিম ঐতিহ্য ও দীর্ঘ ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।