উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেটের খাদিমে প্রশাসনের নীরবতায় খাদিমনগরে সরকারি জমিতে ‘দখলদারদের জরিপ’
নিজস্ব প্রতিবেদক,:: সরকারি খাস জমি রক্ষায় বারবার অভিযান, উচ্ছেদ ও জরিমানার নাটক চললেও বাস্তবে রাষ্ট্র যেন পরাজিত। সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সংবাদ প্রকাশের পর দখলচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে—এখন তারা নিজেরাই সরকারি খাস জমিতে জরিপ চালাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি প্রশাসনের অনুমতিতেই চলছে এই দুঃসাহস?
অভিযোগে উঠে এসেছে নজরুল ইসলাম পিতা–মৃত নামর আলী, মানিক, পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী, কামাল উদ্দীন কামাল, আনোয়ার হোসেন গংরা গত ২ ফেব্রুয়ারি সরকারী নিষেধ অমান্য করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সরকারি খাস জমিতে জরিপ চালায় এবং মনগড়া সীমানা নির্ধারণ করে।
ভূমি রেকর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—বহর মৌজা (জে.এল–৭০) এলাকায় মোট খাস জমি ≈ ৩৮ একর ৩৪ শতক। বৈধ বন্দোবস্ত পাওয়া জমি ≈ ৮ একর ৪ শতক। অবশিষ্ট ৩০ একর ৩০ শতক অবৈধ দখলের আওতায় রয়েছে। গত ৫ বছরে উচ্ছেদ অভিযান: অনেকবার হলেও স্থায়ী মামলা বা দণ্ড: প্রায় শূন্য, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে—উচ্ছেদ হচ্ছে, কিন্তু দখল বন্ধ হচ্ছে না।
সংবাদ প্রকাশের পর ‘নিজেদের জরিপ’—রাষ্ট্রের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ! স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চক্র দাগ নম্বর ভাগ করে মাপজোক করছে, বাঁশ–চিহ্ন বসাচ্ছে, এমনকি সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিয়ে গিয়ে প্লট দেখাচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু দখল নয়—রাষ্ট্রীয় মালিকানার ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ।
# বাংলাদেশ ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল সরকারি খাস জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা দখল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
# ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ ধারা ৪: সরকারি জমি দখল — ৩ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড, ধারা ৬: ভুয়া দলিল ও প্রতারণা — ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
# দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪২০: প্রতারণা ধারা ৪৬৭/৪৬৮: জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার ধারা ৩৪: সংঘবদ্ধ অপরাধ।
# পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ধারা ৬(খ): পাহাড়/টিলা কাটা ও ভরাট শাস্তি: জরিমানা + কারাদণ্ড, এই আইনগুলো কার্যকর না হওয়ায় দখলচক্র আরও সাহসী হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিযোগ উঠেছে—অভিযানের পর এফআইআর না হয়ে দখলচক্রের নাম এড়িয়ে কেবল নোটিশে সীমাবদ্ধতা। পুলিশ ও ভূমি অফিসের দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—“যদি প্রশাসন কঠোর হতো, তাহলে দখলদাররা কীভাবে আবার জরিপ চালায়?”
সচেতন নাগরিকদের মতে, “খাদিমনগর এখন পরীক্ষাগার—এখানে দখলচক্র জিতলে সারা সিলেটে খাস জমি রক্ষা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”তাদের দাবি — ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তার ডিজিটাল জরিপ ও সীমানা পিলার স্থাপন করে দখল–বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের আর্থিক লেনদেন দুদক কর্তৃক তদন্ত করা।
উচ্ছেদে নাটক, দখলে বাস্তবতা খাদিমনগরের খাস জমিতে যা ঘটছে, তা কেবল ভূমি দখল নয়—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দলিল। এখনই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে খুব শিগগিরই সরকারি খাস জমি কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সিলেট জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড, পুলিশ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা।