উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইব্রাহিম আহমেদ উজ্জ্বল,দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি:: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে রাজনীতি আর আদর্শের চেয়ে এখন বড় হয়ে উঠেছে প্রতীকের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ১০ দলীয় জোটের ‘রিকশা’ প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত এই আসনে কার্যত নতুন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—যার সরাসরি চাপ গিয়ে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের শীষের ওপর। একদিকে এশিয়ার প্রখ্যাত শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী (রহ.)–এর সাহেবজাদা মাওলানা মুসলেউদ্দীন রাজু। অন্যদিকে দলীয় কাঠামোর ভরসায় থাকা এম এ মালেক। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে—এ লড়াই আর দু’জন প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন ভোটার মানসিকতা বনাম দলীয় আনুগত্যের সংঘর্ষ।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে দেখা যায়, একটি বড় অংশ এখন আর দলীয় আদর্শে নয়, ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও ‘নিজের লোক’ ভাবনায় ভোট দিতে প্রস্তুত। মাওলানা লোকমান আহমদ যখন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ছিলেন, তখন ধানের শীষের ভোট অনেকটাই নিরাপদ ছিল। কিন্তু রিকশা প্রতীকে মুসলেউদ্দীন রাজুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই সেই নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।
রিকশা প্রতীকটি সাধারণ মানুষের কাছে শুধু একটি মার্কা নয়—এটি হয়ে উঠেছে বিকল্প প্রতিরোধের প্রতীক। যারা প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট দিতে সংকোচ বোধ করছেন, তারা এখন ‘রিকশা’কে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছেন—এটাই ভোটার মনস্তত্ত্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা, দেয়ালঘড়ি, রিকশাসহ ১০ দলীয় জোটের একাধিক প্রতীকের ভোট কার্যত একই বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মুসলেহ উদ্দিন রাজুর নিজ এলাকা বালাগঞ্জ, মোগলাবাজার, মুরারবাজার, মাদ্রাসা বাজার ও আশপাশের এলাকাগুলো মিলিয়ে এই জোটভুক্ত বলয় থেকে প্রায় ৪০–৪৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ধানের শীষের সম্ভাব্য ভোট নেমে আসতে পারে প্রায় ৩০ শতাংশে—যা এই আসনের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। লাঙ্গল ৫ শতাংশ, হাতপাখা ৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে। ব্যারিস্টার মুস্তাকিম রাজা ও এনসিপি নিজ নিজ প্রতীকে প্রায় ৩ শতাংশ করে ভোট পেতে পারেন তবে ১৪-১৫% নীরব আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নীরব ভোটার দৃশ্যমান রাজনীতির জন্য বড় ফ্যাক্ট হতে পারে। সিলেট–৩ আসনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে নীরব ভোটাররা। এরা প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেন না, পোস্টার লাগান না, মিছিলে যান না—কিন্তু ব্যালট বাক্সে গিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব ভোটারদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত রিকশা প্রতীকের দিকেই ঝুঁকতে পারে। সব মিলিয়ে সিলেট–৩ এখন একটি টেস্ট কেস—যেখানে প্রমাণ হবে দল বড়, না প্রতীক ও মনস্তত্ত্ব বড়। এখন দেশ ও জাতি অপেক্ষায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—যেখানেই প্রকৃত ভোটের রায় বেরিয়ে আসবে।