প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রিসোর্টে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানি, পুলিশ প্রশাসন অসহযোগীতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্মরণ সিং, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা ভাঙ্গচুর, ৫লক্ষ টাকা লুটপাত , শ্লীলতাহানি এবং রিসোর্টের মালিক-কর্মচারীদের মারপিট করে বের দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী নারী উদ্দোক্তা মোছাঃ লাবনী ইয়াছমিন।
নারী উদ্দোক্তা রাজধানী ঢাকার মহাখালি নিবাসী ৩১'শে জানুয়ারী দুপুর ১২ ঘটিকার সময় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
নারী উদ্দোক্তা, অভিযোগকারি ভূক্তভোগী লাবনী ইয়াছমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন , গত ২০২৪ সেপ্টেম্বর মাসে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্বামীর সাথে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনায় শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০(ত্রিশ) লক্ষ টাকা দরে ৮৬(ছিয়াশি) শতাংশ জমি ২০( বিশ) বছরের জন্য লীজ নেয়। প্রতি ৫( পাঁচ) বছর পর পর লীজের টাকা পরিশোধ করার শর্ত রেখে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০( ষাট) লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট ’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করে পর্যটকদের রুম ভাড়া পরিচালনা দিয়ে আসছিলেন। তবে, তৃত্বীয় দফার ১০( দশ)লক্ষ টাকা নির্ধারিত সময়ের ২( দুই) মাস পর স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ৬( ছয়) লক্ষ টাকা ৫০( পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানাসহ পরিশোধ করেন । বাকি ৪( চার) লক্ষ টাকা তৎকালিন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সাহেব আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় শ্রীমঙ্গল শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গেলে ভুমির মালিক আওয়ামীলীগ নেতা ইউসূফ খা শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকার করেন ও রিসোর্ট খালি করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। তিনি বক্তব্যে আরও তুলে ধরেন গত ২৬ নভেম্বর ভুমির মালিক ইউসুফ খা, রাজেস, মামনুসহ লোকজন নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে রিসোর্ট খালি করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। রিসোর্ট মালিক অস্বীকার করলে রিসোর্টে হামলা ভাঙ্গচুর ও মারপিট করে। রিসোর্ট মালিক লাবনী ইয়াছমিন ও তার স্বামীকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্ট ফিরে পায়।
নারী লাবনী ইয়াছমিন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন গত ২৪' শে জানুয়ারী রোজ শনিবার পুলিশ থানা থেকে ফোন করে রিসোর্টের মালিক লাবনী ইয়াছমিন এর স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। লাবণী ইয়াছমিন বলেন, স্বামীকে জেলে পাঠানোর পর তিনি জানতে পারেন জমির মাালিক তাদের দুজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে। পরের দিন তারা জামিনে মুক্ত হন।
লাবনী ইয়াছমিন আরও অভিযোগ করেন, গত ২৯'শে জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জমির মালিক আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ খা ২৮-৩০( আটাশ- ত্রিশ) জন লোক দিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর করে প্রায় ৩০( ত্রিশ) লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি করেন। সেসময় নারী উদ্দোক্তার জামা ধরে টানা হেচরা করে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি কিল ঘুষি, শ্লীলতাহানি ও রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে আহত করেছে বলে জানান’। হামলাকরীরা রিসোর্ট থেকে ৫( পাঁচ) লক্ষ টাকা ও জরুরী কাগজ পত্রও ছিনিয়ে নেয়’। তিনি( নারী উদ্দোক্তা) বলেন, আমাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে জোর করে বের করে দেয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এর নির্দেশনা অনুসরন করে স্থানীয় উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ অভিযোগ রেকর্ড না করে তালবাহানা করতে থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
প্রাণ সংশয়, জানমাল নিরাপত্তাহীনতায় বলেন
একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগ অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে আমলে নিয়ে স্বামীকে জেলে নেয়ায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন লাবনী ইয়াছমিন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবণী ইয়াছমিন আরও বলেন, রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিনদিন ধরে এক কাপড়ে তারা বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে, এএসপি সার্কেল থেকে শুরু করে এসপি ইউএনও পর্যন্ত সহায়তা চেয়েও কারো কোন সহায়তা পাইনি।
এবিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন- ‘মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে একই সাথে রিসোর্ট -মালিকানা, আদালতের বিষয়, আদালত ফায়সালা দেবে’।
সংবাদ সম্মেলন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জমির মালিক ইউসুফ খা আওয়ামীলীগ করার কথা অস্বীকার করে বলেন-‘আমার কাছে কাগজপত্র আছে-কাগজপত্র । আদালতে-থানায় মামলা দিছি -কোট এর সমাধান দিবে’।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।