উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: নছিবা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে প্রকাশ্যে জুয়ার বোর্ড বসিয়ে তীর জুয়া চালানোর অভিযোগ উঠেছে নজরুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ভেতর নিয়মিতভাবে জুয়ার আসর বসে, যেখানে দিন-রাত জুয়ারীরা অবাধে অংশ নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ শেল্টারে বাস টার্মিনাল এলাকার একাধিক আবাসিক হোটেলে দিন-রাত ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি এবং সেবন চলে। এসব হোটেল কার্যত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ধারা ৩৬(১): ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি, পরিবহন ও সংরক্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধারা ৩৮: মাদক সেবন নিজেই দণ্ডনীয় অপরাধ।জুয়া আইন, ১৮৬৭ ধারা ৪ ও ৫: প্রকাশ্যে বা গোপনে জুয়া খেলা ও জুয়ার স্থান পরিচালনা অপরাধ
১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি ধারা ২৭০ ও ২৭১: জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম ধারা ২৯০: জনদুর্ভোগ সৃষ্টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে জুয়া ও মাদক কার্যক্রম এই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা নীতিমালা বিদ্যালয়ের আশপাশে জুয়া ও মাদক কার্যক্রম সরাসরি নিষিদ্ধ।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস টার্মিনাল ও নতুন রেলওয়ে স্টেশন কেন্দ্রিক এলাকা অপরাধীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। কারণ— যাত্রী চলাচল বেশি→অপরাধ গোপন করা সহজ, আবাসিক হোটেলের সংখ্যা বেশি → মাদক সেবন ও লেনদেন সহজ, পুলিশের নজরদারির ঘাটতি থাকায় অপরাধীদের সাহস বাড়ছে,স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ, মাদক সেবন ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা স্থায়ী ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,“স্কুলের পাশে জুয়া চলে, বাসে বসে জুয়া হয়—এটা আর গোপন কিছু না। কিন্তু অভিযোগ দিলেও কোনো ফল পাই না।”
এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কদমতলী ফাঁড়ি পুলিশের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় জুয়া–মাদক সিন্ডিকেটের এমন বেপরোয়া দৌরাত্ম্য শুধু আইন লঙ্ঘন নয়—এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।