উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দক্ষিণ সুরমা সংবাদদাতা : : সংবাদ প্রকাশের পরও দক্ষিণ সুরমার সরকারি সুইপার কলোনীতে নান্টুলালের মাদক ব্যবসা বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা—বরং তা আরও প্রকাশ্য ও বেপরোয়া রূপ নিয়েছে। একের পর এক সংবাদ প্রকাশ হলেও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সিলেট এডিশনে “মাদকের স্বর্গরাজ্যে দক্ষিণ সুরমা, সরকারি ঘরে ইয়াবা–গাঁজার আস্তানা, পুলিশের নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে একাধিক স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমেও সুইপার কলোনীর মাদক বাণিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ছাপা হলেও নান্টুলালের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৭ জানুয়ারি নান্টুলালের পাশের কাশেমের জুয়ার বোর্ডে পুলিশ অভিযান চালালেও, অদৃশ্য ও অজানা কারণে ঠিক পাশেই থাকা নান্টুলালের মাদকঘরে অভিযান চালানো হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ কি মাদক কারবারির কাছে জিম্মি? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘নির্বাচিত অপরাধী’ ধরার নাটক চলছে?
দক্ষিণ সুরমার ক্বিনব্রিজের নিচে অবস্থিত সরকারি সুইপার কলোনী এখন কার্যত মাদক বিক্রির উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—
দিনে-রাতে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও বাংলা মদ বিক্রি উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অবাধ যাতায়াত নান্টুলালের নিজ বসতঘরই মাদক বিক্রির কেন্দ্র স্থানীয়রা জানান, নেশাগ্রস্ত যুবকেরা নির্ভয়ে নান্টুর ঘরে গিয়ে মাদক কিনে নিয়ে আসে—কারণ তাদের ভাষায়, “এখানে কেউ ধরা পড়ে না।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলের সুইপার নান্টুলালের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে এবং অতীতে সে মাদকসহ আটকও হয়েছিল। তবুও—কেন তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান নেই? কেন রেল কর্তৃপক্ষ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নান্টুলাল প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে— পুলিশ ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ব্যবসা।
সম্প্রতি নান্টুর বাসা থেকে ইয়াবা কিনতে গিয়ে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। জনতার সামনে সে স্বীকার করে—ইয়াবা নান্টুলালের কাছ থেকেই কেনা। তবুও আশ্চর্যজনকভাবে, ঘটনার পরও মূল মাদক কারবারি অধরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (ধারা ৩৬, ৩৮) দণ্ডবিধি ১৮৬০ (ধারা ২০১—অপরাধ আড়াল করা) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতি।
সচেতন মহলের মতে, পুলিশের এই দীর্ঘ নীরবতা ও পক্ষপাতদুষ্ট অভিযানের ফলে—এলাকায় মাদকাসক্তি বাড়ছে, স্কুল–কলেজ পড়ুয়া তরুণেরা ঝুঁকির মুখে, আইনশৃঙ্খলার উপর মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ছে।
সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে—নান্টুলালের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মাদক বিরোধী অভিযান জরুরী, অভিযানে গাফিলতির দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা, রেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া এবং মাদক ব্যবসায় পুলিশি সম্পৃক্ততার অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত। এখন দেখার বিষয়—পুলিশ কি এবারও নীরব থাকবে, নাকি আইন নিজের গতিতেই চলবে?