প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বারবার উচ্ছেদ ও জরিমানার পরও ফের দখলে সরকারি খাস জমি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় সচেতন মহল
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট :: বারবার সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ও জরিমানা আদায়ের পরও পুনরায় দখলের ঘটনা ঘটছে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায়। এতে করে সরকারি সম্পদ রক্ষা নিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডাধীন খাদিমনগর এলাকা, শাহপরাণ (রহ.) থানার অন্তর্ভুক্ত বহর মৌজার (জে.এল নং–৭০) আওতাভুক্ত সরকারি খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, বহর মৌজার ১৪২ নং দাগের মধ্যে মাত্র ৮ একর ৪ শতক জমি বৈধভাবে বন্দোবস্ত লিজ দেওয়া হয় ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা মুহাজির (রিফিউজি) পরিবারগুলোর নামে। অবশিষ্ট প্রায় ৩০ একর ৩০ শতক জমি আজও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এছাড়া উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকার ভেতরে ২০০১ নং দাগসহ বিভিন্ন দাগে পাহাড়, টিলা ও পতিত খাস জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে কেবলমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্দিষ্ট প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য সব জমি এখনো সরকারের মালিকানাধীন খাস জমি হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে।
ভূমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, এসব জমি বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাহাড় বা টিলা কেটে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ রয়েছে—এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র অনুমোদনবিহীন ও ভুয়া দলিল তৈরি করে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে বেচাকেনা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহর কলোনীর কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বাইরের প্রভাবশালীরা একত্রিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা–মৃত নামর আলী), মানিক (পিতা–কাসেম আলী ওরফে পেনদী), কামাল উদ্দীন কামালসহ একাধিক দখল কন্ট্রাক্টর গ্রুপের নাম। এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাতিল ও অনুমোদনহীন লিজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে সরকারি খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে খাদিমপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার ও তার সহযোগীরা। অভিযানে উছমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে অবহিত করা হয়।
তবে অভিযানের পরও পুনরায় দখলচেষ্টা ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে।
এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও, তহসিল বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।