প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল ও ধারাবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ —থানা নীরব, ডিআইজির কাছে নালিশ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ও ছবি ধারণ, তা সামাজিক যোগাযো গমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন দুই সন্তানের জননী রিংকু রানী দাস (২৭)। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রুবেল দাস (৩০)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সুখের সংসার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার ধর্ষণ, মানসিক নির্যাতন ও সামাজিকভাবে হেয় করার পরও ঘটনার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি—যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের ওমরচাঁদ দাসের মেয়ে রিংকু রানী দাসের সঙ্গে প্রায় ১১ বছর আগে একই গ্রামের ওয়েশিস দাসের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দরিদ্র হলেও শান্তিতে চলছিল তাদের সংসার। বর্তমানে তাদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই রিংকুর দূরসম্পর্কের আত্মীয়, নগর গ্রামের মঞ্জু দাসের ছেলে রুবেল দাস তার স্বামীর বাড়িতে অবাধ যাতায়াত শুরু করে। একপর্যায়ে রুবেল প্রেমের প্রস্তাব দিলে রিংকু তা প্রত্যাখ্যান করেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রত্যাখ্যানের পরও রুবেল উত্যক্ত চালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রুবেল চা-বিস্কুট নিয়ে আসে। সরল বিশ্বাসে চা পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তাকে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরদিন এসব ভিডিও দেখিয়ে সামাজিক যোগাযো গমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্বামীকে দেখানোর হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে রুবেল। কান্নাকাটি করে পায়ে ধরেও রেহাই মেলেনি। বরং অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই সন্তানসহ তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।
রুবেলের ভয়ে রিংকু ঢাকা গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিলেও সেখানেও তাকে হেয় করা হয় বলে অভিযোগ। পরে বাড়িতে ফিরলে এক রাতে ঘরের দরজা খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর থেকে সংসার ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করা হয়।
একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। পরে রুবেল আবার বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানেও শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে ‘ঘরে তোলার অনুষ্ঠান’-এর কথা বলে সিলেটে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার
মাধ্যমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ন্যায়বিচার পেতে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিংকু রানী দাস। কিন্তু অভিযোগ গ্রহণের পর ১৬ দিন পার হলেও কোনো তদন্ত বা মামলা দৃশ্যমান হয়নি।
শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে তিনি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একাধিক ধারা প্রযোজ্য হলেও স্থানীয় থানার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। প্রভাবশালী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন কেন নীরব—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী অবিলম্বে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, ভিডিও উদ্ধারে প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।