প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের সিলেট সফরে কামাল উদ্দিনের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রবাসী বার্তা
সিলেট এডিশন ডেস্ক
ইব্রাহীম আহমদ উজ্জল:: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়—এটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্ব কাঠামো ও প্রবাসী শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি স্পষ্ট বার্তা। এই সফরকে ঘিরে সিলেট বিএনপিতে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন পর মাঠের রাজনীতিতে দলটির আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিলেট নগরীর অলিগলি ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এসব ব্যানারে শুধু স্বাগত বার্তাই নয়, দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বিএনপির ভেতরের নেতৃত্বের বলয় ও প্রভাবশালী মুখগুলো। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপের সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন–এর ব্যানারটি রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব রেখে আসছেন, কামাল উদ্দিন তাঁদের অন্যতম। প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি শুধু প্রতীকী নেতা নন; বরং সংগঠন, অর্থায়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগ—এই তিন ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছেন।
কামাল উদ্দিনের ব্যানার শুধু ব্যক্তিগত উপস্থিতির জানান নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা—আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসী বিএনপি ও ইউরোপীয় বলয়ের সমর্থন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সঙ্গে সুসংহত, সেই বার্তাই এতে স্পষ্ট হয়েছে।
কামাল উদ্দিনের বাড়ি সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বলদী গ্রামে। এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাঁর পরিবারও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। বড় ভাই হাজি শাহবুদ্দিন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলদী কেন্দ্রীয় মসজিদের মোতওয়াল্লি ও লিটল ষ্টার কিন্ডারগার্টেন নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে সামাজিক নেতৃত্বও দিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পারিবারিক ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয় দক্ষিণ সুরমাকে বিএনপির একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংকে পরিণত করেছে, যা আগামী নির্বাচনে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২১ জানুয়ারি তারেক রহমানের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারতের কর্মসূচিকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রতীকী মনে করছেন। এটি একদিকে সিলেটের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহের সঙ্গে সংযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার কৌশল।
পরদিন ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভা এবং সেখান থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর ঘোষণা—বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মাইলফলক। দলটি বোঝাতে চাচ্ছে, সিলেট থেকেই তারা মাঠের রাজনীতিতে পূর্ণ শক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত।
এই সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপি কয়েকটি বার্তা দিতে চায়—প্রথমত, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ।
দ্বিতীয়ত, প্রবাসী ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়েছে।
তৃতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আর শুধু আন্দোলনের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই; তারা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিলেটের ব্যানার-ফেস্টুনে ভেসে ওঠা নাম ও মুখগুলো—বিশেষ করে কামাল উদ্দিনের উপস্থিতি—ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতিতে প্রবাসী নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।