প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
জামালপুরে বোরো ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সিলেট এডিশন ডেস্ক
কৃষকদের সফলতার গল্পে প্রশংসিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প
মোঃ সুমন মিয়া, জামালপুর:; জামালপুর জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর আওতায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামালপুর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর অতিথিবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীরা আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর প্রকল্প পরিচালক জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বোরো ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সঠিক সময়ে বীজতলা প্রস্তুত, উন্নত জাত নির্বাচন, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক সেচ পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে জামালপুর জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। এছাড়াও তিনি আরো বিগত বছরগুলোর নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সফলতা ও ব্যর্থতার গল্প গুলো তুলে ধরেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং-এর পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপসহকারী এবং কৃষি অফিসারদের উপর বেশ গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলম শরীফ খান। তিনি বলেন, জামালপুর একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এ জেলার কৃষকদের উন্নত কৃষি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ দেন। জমির উর্বরতা যত কষ্ট না হয় এর জন্য কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কর্মশালার একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্য থেকে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য প্রদান করা হয়। কৃষকেরা তাদের মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট এবং মাঠপর্যায়ের পরামর্শ তাদের কৃষিকাজে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে। সঠিক জৈব সার সার ব্যবস্থাপনা, রোগ বালাই নিধনে আলোকপাত ব্যবহার করার বিষয়েও কথা বলা হয়।
কৃষকদের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় বক্তব্য দেন জামালপুর জেলার এক সফল কৃষাণী শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম একটি প্রদর্শণীর মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন এখন তিনি সফল ব্যবসায়ী । অভাব অনটনের সংসার থেকে তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী।
কর্মশালার কারিগরি সেশনে বোরো ধানের উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক সেচ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। নামাজ ও মধ্যাহ্ন ভোজনের পর পুনরায় কারিগরি সেশন শুরু হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলম শরীফ খান কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বোরো ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মশালাটি আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, জামালপুর এবং সহযোগিতা করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারাও ইতিবাচক বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।