প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
শান্তিগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
সিলেট এডিশন ডেস্ক
আলাল হোসেন,শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি:: শান্তিগঞ্জের ছোট বড় ২৩টি হাওরের বেশির ভাগ বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়সীমার তিন সপ্তাহের অধিক সময় পার হলেও এখনো শুরু হয়নি। যেসব হাওরে কাজ শুরু হয়েছে তার গতি নিয়েও হতাশ হাওরপাড়ের কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঘোষণা ও নীতিমালা অনুযায়ী, বিগত ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতা ও ত্রয়োদশ নির্বাচনের অজুহাতে ঋপনল বাঁধের কাজ শুরু হয় নি। অন্যদিকে উপজেলা ভিত্তিক হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের স্কিম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত উপজেলা কমিটির লোকজন বলছে, উপজেলার ছোট বড় ২৩ হাওরে ৬৭টি প্রকল্প সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে এবং তাদেরকে কাজের কার্যাদেশের প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’র (পিআইসি) ব্যাংক হিসাব এখনো খোলা হয় নি।
সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম দেখার হাওর। এ হাওরকে বলা হয় বোরো ফসলের শস্যভাণ্ডার। এতে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। চলতি বছর শান্তিগঞ্জের অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধখ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি এখনো বাঁধের কাজ। এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে দেখার হাওরের ১২ হাজার হেক্টর বোরো ফসল।
শান্তিগঞ্জের দেখার হাওরের অংশের উথারিয়া, হলদির কাড়া, ছাইয়া কিত্তা ও দিঘদাইড়সহ ৪টি মূল বাঁধ মহাসিং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। উথারিয়া মূল বাঁধ সহ ৪টি বাঁধের ভাঙা দ্রুততম সময়ে ও অল্প দিনে মেরামত হলে টেকসই না হওয়ার কারণে উল্লেখিত ভাঙা ভেঙে ৪ উপজেলার কয়েক লাখ কৃষককের ৬ মাসের পরিশ্রম জলে যাবে। নিঃস্ব হয়ে যাবে কৃষক ও তার পরিবার। তাই অন্যান্য বাঁধের চেয়ে এই বাঁধের প্রতি বিশেষ নজর থাকে স্থানীয় কৃষক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের। কিন্তু এ বছর ওই হাওরের আসামপুর গ্রামের পশ্চিম পাশ হয়ে উথারিয়া হয়ে পুনরায় আস্তমা গ্রামের উত্তরে নদীর দুই পাশে প্রায় ৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আস্তমার অংশে দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) লোকজন ছাইয়া কিত্তা সহ আংশিক কাজ শুরু করলেও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজন বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরুই করে নি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখার হাওরের ৭টি প্রকল্পের বাঁধের কাজ দেখতে গেলে বাঁধের কোথাও এমনকি আশপাশ এলাকায় কাজের বিবরণী দিয়ে কোন সাইন বোর্ড দেখতে পাওয়া যায় নি। হাওর পাড়ের কৃষকদের অভিযোগ, দেখার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় তারা ফসলহানি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। ১/২টি প্রকল্প কাজ শুরু করলেও তারা উপরের মাটি নিচে দিয়ে এবং বাঁধের দুইপাশ কেটে মাটি উপরে উঠিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ ইচ্ছামতো করছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কোন এলাকায় কত টাকার কাজ হচ্ছে, কারা কাজ করছে। কবে শেষ হবে, কাজের মেয়াদ কত দিন এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয় লোকজন।
আস্তামা গ্রামের কৃষক আলিম উল্লা সহ স্থানীয় একাধিক কৃষকরা জানান, উথারিয়া ক্লোজার এই হাওরের ডেঞ্জার পয়েন্ট। এটি অরক্ষিত রেখে পুরো হাওরে কাজ করলে কোনো লাভ হবে না। আগাম বন্যা আসলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। প্রতি ৩ বছর পরপরই এই অঞ্চলে একবার আগাম বন্যা আসে। বিগত ৩ বছর আমরা ভালোভাবে ফসল উঠিয়েছি। এ বছরটা কৃষকদের জন্য দুর্যোগের বছর মনে হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান মোহন জানান, সকল পিআইসি কমিটির লোকজনকে কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। দেখার হাওরে ২/৩ দিনের মধ্যে পুরোদমে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য উথারিয়া ক্লোজারটি খোলা রাখা হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।