প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
হাওরের জমি, রক্তের দাগ লাখাইয়ে দখলযুদ্ধে প্রাণ গেল একজনের আতঙ্কে গ্রাম—মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক ::হাওরের ফসলি জমি—যেখানে কৃষকের স্বপ্ন, জীবিকা আর বছরের পর বছর বেঁচে থাকার লড়াই—সেই জমিই এবার রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ময়দানে। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হাওরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হিরাজ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের হাওর এলাকায় ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কথা-কাটাকাটি হলেও মুহূর্তেই তা রূপ নেয় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে। লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় হাওরের বিস্তীর্ণ অংশ।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুরুতর আহত হন ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা হিরাজ মিয়া, যিনি হয়রত আলীর ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর গ্রামজুড়ে চাপা কান্না ও ক্ষোভ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর গ্রামের মোখলেছ মিয়ার সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলার আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলাল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হাওরের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই জমি বিরোধই রূপ নেয় সহিংসতায়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মোখলেছ মিয়া, কামাল মিয়া, রেজাউল, আকতার মিয়া, রকিব মিয়া, ফয়জুল, জুবায়েদ, মহিউদ্দিন, হারুন, সোয়াব মিয়া, জিসান মিয়া, ধলাই মিয়া ও নুর ইসলাম। তাদের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া তারেক মিয়া, শিফা আক্তার, কাশেম মিয়া ও খাদিজা বেগমকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা এখনও গুরুতর।
খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ফরিদপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ বলছে, আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
হাওরাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। কিন্তু প্রশাসনের আগাম হস্তক্ষেপ ও কার্যকর মধ্যস্থতা থাকলে কি এই প্রাণহানি এড়ানো যেত না? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ জমে উঠছিল, অথচ তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
একটি জমি, একটি প্রাণ—লাখাইয়ের হাওর যেন আবারও সাক্ষী হলো দখলদারিত্বের নির্মম পরিণতির।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।