প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
জরিপের নামে ঘুষ বাণিজ্য! সাবেক প্রসেস সার্ভেয়ার সুজিত কুমার দে’র বিরুদ্ধে ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও রেকর্ড জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ভূমি জরিপ—যার লক্ষ্য নাগরিকের ভূমি অধিকার সুরক্ষা—সেই জরিপ কার্যক্রমই কি কুলাউড়ায় পরিণত হয়েছে ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার হাতিয়ারে? মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর মৌজায় এক দরিদ্র শ্রমজীবী ভূমি মালিকের অভিযোগ সেই ভয়ংকর প্রশ্নই তুলে ধরছে।
সাবেক প্রসেস সার্ভেয়ার সুজিত কুমার দে’র বিরুদ্ধে মাঠ জরিপ চলাকালে ভুল রেকর্ড সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে মোট ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পেশায় দিনমজুর। জরিপ চলাকালে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কর্মরত থাকায় তার ওয়ারিশান জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কুলাউড়া ও আলমপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ছুটে গেলেও সেখানে শুরু হয় হয়রানির অধ্যায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অফিস পেশকার ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তাকে সাবেক প্রসেস সার্ভেয়ার সুজিত কুমার দে’র কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে—
অফিসের বাইরে ডেকে নেওয়া, ‘আপিল অফিসারের মাধ্যমে করে দেব’ বলে আশ্বাস, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি এবং ধাপে ধাপে নগদ টাকা গ্রহণ সব মিলিয়ে ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ভুক্তভোগী জানান, টাকা নেওয়ার পর একের পর এক তারিখ দিয়েও প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত প্রসেস সার্ভেয়ার ফোন বন্ধ করে দেন, বাসার ঠিকানায় পাওয়া যায় না, অফিসেও অনুপস্থিত থাকেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ—আলমপুর অফিসে হঠাৎ মুখোমুখি হলে অভিযুক্ত উল্টো ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কাজ তো করেনইনি, বরং আপিল অফিসারের নাম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বিবরণে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মৌজার কাগজপত্র অফিসের বদলে এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বাসায় রাখা ছিল, যেখানে অভিযুক্ত ও প্রতিপক্ষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
এতে প্রশ্ন উঠছে— জরিপের গুরুত্বপূর্ণ নথি কেন ব্যক্তিগত বাসায়? কার অনুমতিতে সেখানে প্রবেশাধিকার?
প্রসেস সার্ভেয়ার কীভাবে ‘আপিল অফিসারের নাম’ ব্যবহার করে ঘুষ দাবি করতে পারেন? দুর্নীতির দায় কার?
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি কাউকে সাক্ষী রাখেননি, লিখিত কোনো রসিদও নেননি—কারণ তিনি ছিলেন অশিক্ষিত, সরল ও প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল। সেই দুর্বলতাকেই পুঁজি করে পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় শুধু একজন প্রসেস সার্ভেয়ার নয়, ভূমি জরিপ ব্যবস্থার ভেতরের দুর্নীতির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ, তদন্ত দাবি......
ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে টাকা উদ্ধার ও আইনি সহায়তার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন—
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, খদুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট, র্যাব-৯ সিলেট এবং সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
তিনি অবিলম্বে— অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি তদন্ত, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং
ভুল রেকর্ড সংশোধনে রাষ্ট্রীয় সহায়তা চান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূমি প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হলে অনেক অপ্রকাশিত অনিয়ম সামনে আসতে পারে।
প্রশ্ন এখন একটাই—একজন শ্রমজীবী মানুষের জমি ও কষ্টার্জিত অর্থ লুটের দায় কে নেবে?
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।