প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
গোলাপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘সাবানা টিলা’ কেটে পরিবেশ ধ্বংস পুলিশের হাতে আটক ৩, বড় অংকের টাকায় দফারফার অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি, সিলেট :: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-দক্ষিণ ভাদেশ্বর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘সাবানা টিলা’ কেটে প্লট তৈরির মাধ্যমে ভয়াবহ পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে টিলাটি কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নালিউরি গ্রামের পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পেছনে, পশ্চিম-উত্তর দিকে অবস্থিত এই টিলাটি দীর্ঘদিন ধরে ‘সাবানা টিলা’ নামে পরিচিত। বর্তমানে টিলাটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে দক্ষিণ ভাগ গ্রামের আলী হোসেনের পুত্র রুহুল আমিনের নাম উঠে এসেছে।
বিগত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত কৌশলে টিলাটি কাটা হচ্ছে। এমনভাবে মাটি কাটা হচ্ছে যেন সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীদের চোখে না পড়ে। ফলে প্রকাশ্যেই পরিবেশ ধ্বংস হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন অগোচরে থেকে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে টিলা কাটা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে পুরো টিলাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আশপাশের বসতবাড়ি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিলা কাটা শুধু পরিবেশ আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে টিলা কাটার সময় হাতেনাতে ৩ জন শ্রমিককে আটক করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, আটকের পরপরই টিলার মালিক পক্ষ বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আটক হওয়ার পরও কীভাবে অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে গেল? পরিবেশ ধ্বংসের মতো গুরুতর অপরাধে কেন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
এ বিষয়ে জানতে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক -এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একদিকে চলমান টিলা কাটা, অন্যদিকে দায়িত্বশীল দপ্তরের এমন বক্তব্য পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
শ্রমিকদের আটক ও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে কোন পুলিশ গিয়েছিলো জানালে ব্যবস্থা নিতে পারবো।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল অবিলম্বে—
টিলা কাটার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা, অবৈধ প্লটিং কার্যক্রম বন্ধ, এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যদি এভাবে ঐতিহ্যবাহী টিলা ধ্বংস হতে থাকে, তাহলে গোলাপগঞ্জসহ পুরো সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।