প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
গোয়াইনঘাট সীমান্তে মান্নান মেম্বারের বেপরোয়া চোরাচালান সাম্রাজ্য প্রশাসন নীরব
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অবৈধ পণ্য ও মাদকের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাফলং সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশের গুঞ্জনে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা এলেও বাস্তবে চোরাচালান কার্যক্রম থামেনি।
রাতের ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে জাফলংসহ সীমান্তবর্তী একাধিক পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ মাদক, অত্যাধুনিক অস্ত্র, ভারতীয় কসমেটিকস ও নিত্যপণ্য দেশে প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়লেও চোরাচালান বন্ধে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা উত্তর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানার কিছু অসাধু সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় সীমান্ত চোরাচালান পরিচালিত হচ্ছে। নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দিলেও, ঘোষণার প্রায় ১০ দিন পরও সীমান্তবর্তী থানাগুলোতে কার্যকর কোনো নির্দেশনার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন থানায় ওসি রদবদল হলেও নবাগত ওসিরা দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই চোরাচালান সিন্ডিকেট পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ওসিদের নাম ব্যবহার করে নিয়মিত বখরা আদায় করছে তথাকথিত লাইনম্যানরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত চোরাচালানের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন। একসময় কসমেটিকস চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারত থেকে কম্বল, মাদক, অস্ত্র, কসমেটিকস, চিনি, চা পাতা, মদ ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
স্থানীয়রা জানান, মান্নান মেম্বারের নেতৃত্বে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির নাম ব্যবহার করে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। সপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে নির্ধারিত বখরা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু সাংবাদিকও এই অর্থের ভাগ পান। জাফলং জিরো পয়েন্ট, সিঁড়ির ঘাট, সাইনবোর্ড, লালমাটি, আমতলা, নলজুড়ি ও বল্লাঘাটসহ একাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিরাতে কোটি টাকার অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চোরাচালানের বিরুদ্ধে মুখ খুললে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। মান্নান মেম্বারের একটি শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, মান্নান মেম্বারের মালিকানাধীন কয়েকটি দোকান অভিযানকালে নিরাপদ গোডাউনে পরিণত হয়। অভিযানের সময় দোকানগুলোতে কোনো মালামাল জব্দ না হলেও পরে সেখান থেকেই ধাপে ধাপে অবৈধ পণ্য সরবরাহ করা হয়।
সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সীমান্তে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।