প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
দোয়ারাবাজারে যুবদল সভাপতি হারুনের নেতৃত্বে মসজিদ ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ আহত-৫
সিলেট এডিশন ডেস্ক
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতির নেতৃত্বে একটি মসজিদ ও একাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোগলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বালুচর গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে হারুনুর রশিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাচুরা গ্রামে তার নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা একটি মসজিদসহ একাধিক বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে। এ সময় হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লাপাড়া গ্রামের মুসলেম উদ্দিনের ছেলে সাবেক সেনা সদস্য তাইজ উদ্দিন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র হার্মাফিজ আহমদ তানিম, নোয়াগাঁও গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিক ছিদ্দিক আলম বলেন,হারুন তার দলবল নিয়ে আমার ঘরে হামলা করেছে। ঘরের নতুন টিনের বেড়া রামদা দিয়ে কুপিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। সমাজ ও প্রশাসনের কাছে হারুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবদল সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। এসব কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, দলীয় পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী। প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। আমরা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবো। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাদক রায় বলেন, বিষয়টি শুনেছি। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো অনৈতিক কাজ করার সুযোগ নেই।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ এক যৌথ বক্তব্যে বলেন,আমাদের মসজিদে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সমাজবাসীর কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আগামী শুক্রবার হারুনুর রশিদের বালিচড়া সমাজে এর বিচার দাবি করা হবে। বিচার না পেলে সমাজবাসী একত্রিত হয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।