প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যৌতুক—চাই মানসিকতায় বদল
সিলেট এডিশন ডেস্ক
যৌতুক কেবল একটি প্রথা নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্য অভিশাপ। অদৃশ্য আগুনের মতো এটি ধীরে ধীরে পারিবারিক সুখ-শান্তি ধ্বংস করে, মেয়েদের স্বপ্ন ভস্ম করে এবং মানবিক সম্পর্ককে বাজারি লেনদেনে পরিণত করে।
বাংলাদেশে যৌতুকবিরোধী আইন থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত। এখনো গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বিয়ের সময় যৌতুক চাওয়া হয়। যারা দিতে পারে না, তাদের মেয়েরা নির্যাতন, সংসার ভাঙন কিংবা মৃত্যুর মতো পরিণতির মুখোমুখি হয়। আইন ভঙ্গকারীরা প্রায়শই শাস্তি এড়িয়ে যায়; ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এ প্রথা টিকিয়ে রাখার পেছনে দায়ী মানসিকতা—মেয়েকে পরিবারের বোঝা মনে করা, যৌতুককে গর্ব বা প্রতিযোগিতার বিষয় করে তোলা, কিংবা বিয়েকে সম্পদ অর্জনের মাধ্যম ভেবে নেওয়া। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে কেবল আইন দিয়ে যৌতুক নির্মূল সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে জরুরি কয়েকটি পদক্ষেপ:
দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান শাস্তি: যৌতুক দাবিদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা সমাজে ভয় তৈরি করবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল মেয়েরা আর বোঝা নয়, বরং শক্তি।
সামাজিক বর্জন: যৌতুক দাবিদার পরিবারকে আত্মীয়-পরিজন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
প্রচার ও সচেতনতা: নাটক, সিনেমা, সংবাদমাধ্যম ও ধর্মীয়/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যৌতুকবিরোধী প্রচারণা।
যৌতুক কেবল আইনের জোরে থামানো যাবে না। মানসিকতায় বদল আনতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিয়ে যেন লেনদেন নয়, মানবিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনের উৎসব হয়—এটাই এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।