প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫
সিলেটে নিয়ম পাশ কাটিয়ে নিম্নমূল্যে নিলাম ডাকের তেলেসমাতি কারবার সাড়ে ১২ কোটি টাকা গচ্ছা
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিউজ ডেক্স:: সিলেটে জব্দের প্রায় ২২ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ঘনফুট বালুর সরকারি সিলেকশন নিলামকে কেন্দ্র করে উঠেছে ব্যাপক অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন—এটি ছিল “শায়েস্তা খাঁ দরে” বালু বিক্রির একটি অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত বালুমহাল নিলামের নিয়ম পাশ কাটিয়ে নিম্নমূল্যে বালু বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোট বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি টাকার ওপর, অথচ নিলামে তা বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৩ ভাগের ১ ভাগ দামে, ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি টাকারও বেশি। নিলামে অংশ নেওয়া ৯ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ৮ জনই উপস্থিত ছিলেন না, তবুও সম্পন্ন হয়েছে তথাকথিত নিলাম কার্যক্রম।
১৩ কোটি টাকার বালু মাত্র ৩৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি
১২ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ক্ষতি,নিলামের দিনে অধিকাংশ ব্যবসায়ী অনুপস্থিত, বালুর মূল নির্ধারণে ‘সিন্ডিকেট’ প্রভাব, নিয়ম মানা হয়নি—সাইট পরিদর্শন ছাড়াই নিলাম অনুমোদন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামের সময় বালুমহালের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন, বালুর পরিমাণ মূল্যায়ন এবং বাজারদর অনুযায়ী ভিত্তিমূল ঠিক করার কথা। কিন্তু জব্দের ক্ষেত্রে এসব আনুষ্ঠানিকতা উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই কম মূল্যে নিলাম সম্পন্ন করা হয়।
“যেভাবে অতি কম দামে নিলাম সম্পন্ন করা হয়েছে, এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ন্যায্য নিলাম চাই।”
এদিকে সিলেটের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিলাম কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিয়ম না মেনে তড়িঘড়ি করে নিলাম শেষ করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—নিলাম প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নেই, স্বচ্ছতা নেই। সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারি সম্পদ লুট করা হচ্ছে।”
সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।