প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫
৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শাবিপ্রবির উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য শাকসু নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে শনিবার ভোর পৌনে চারটায় আন্দোলনের নতুন আল্টিমেটাম দেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে দেলোয়ার হাসান জানান,
‘আমরা শাকসুর ঘোষিত ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন তারিখ প্রত্যাখ্যান করেছি। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই যেকোনো একটি দিনে নির্বাচন দিতে হবে। আজ শনিবার রাত ৯টার মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণা না করলে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলবে এবং আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’
তিনি আরও বলেন, শীতকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী শাকসু নির্বাচনের জন্য ১৭ ডিসেম্বর তারিখ ঘোষণা করেন। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, নির্বাচন কমিশনারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
রাত ১টার দিকে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা অনড় থাকেন। অবশেষে আজ দুপুরের আগে সিদ্ধান্ত জানানো হবে—এই আশ্বাস পাওয়ার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর কর্মকর্তারা মুক্ত হন। পরে আন্দোলনকারীরা জানান, দুপুর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে।
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পর উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন হবে, তোমরা প্রস্তুতি শুরু করো। এটি আমার একক সিদ্ধান্ত নয়। তোমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন আন্দোলনে এসে সমর্থন জানান। তিনি বলেন,
‘শাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি মহল শুরু থেকেই বিরোধিতা করছে। উপাচার্য ৯ বা ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। হঠাৎ ১৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে—এটি প্রহসন। আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি।’
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রশাসন বকেয়া ফি পরিশোধে শিথিলতা দিয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার জন্য পাওনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়।
এ ছাড়া শীতকালীন ছুটির সময় পরিবর্তন করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস–অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি চলবে।
উপাচার্য বলেন, ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে অনেকে ক্যাম্পাসে না থাকার আশঙ্কা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সে বিষয় বিবেচনায় ছুটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ভোটার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।