প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫
কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফররুখ আহমেদকে সাময়িক বরখাস্তের পর আপুষ মিমাংসা
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনের সিসিফুটেজ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর, ঐ শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ১৩ নভেম্বর বরখাস্তের আদেশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এর আগে এই বিষয়টি শেষ করার কোন উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেননি, অথচ বরখাস্তের আদেশের পর তড়িঘড়ি করে ১৩ নভেম্বর রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আপুষ মিমাংসা করে গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন কিরেয়ে নিজের চাকুরী ও সম্মান বাঁচাতে চেষ্টা করেন।
যেভাবে বরখাস্তের আদেশ হলো-কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফররুখ আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি। আজ ১৩ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ০২ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে আরও বলা হয়, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪ সালের (৩.৭) বিধিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ০২ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষককে তাঁর পদ থেকে সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, বরখাস্তের মেয়াদকালে প্রধান শিক্ষক ফররুখ আহমেদ কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং তিনি নিয়মানুযায়ী মোতাবেক ভাতাদি পাবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত আদেশটি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
আপুষ মিমাংসা হলো যেভাবে:-সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র সাইদা বেগমকে নির্যাতনের ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে জগন্নাথপুর পৌর শহরের ভয়েস স্টার স্টুডিওতে শিক্ষক, ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে বিষয়টির আপুষ মিমাংসা করা হয়।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফররুখ আহমেদ অসর্তকতাবশত ছাত্র সাইদা বেগমের ওপর কটূ আচরণ করেন। পরবর্তীতে সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।
আলোচনায় প্রধান শিক্ষক মোঃ ফররুখ আহমেদ ঘটনাটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন—
“আমি স্বীকার করছি, আমার আচরণ শিক্ষকতার নীতিবিরোধী হয়েছে। কোনো খারাপ উদ্দেশ্য আমার ছিল না, তবুও এই ঘটনায় ছাত্রী, তার পরিবার ও সমাজের যারা মানসিক কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে আমি গভীরভাবে দুঃখিত।”
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্রীর পরিবার শিক্ষকের ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করলে পরিস্থিতির সমাধান হয় এবং উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন — সিলেট জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, সিলেট এম.সি কলেজের ছাত্রনেতা ইসমাইল খান সৌরভ, ছাত্রনেতা রাইসুল আমিন, রাহি কামালী, সমাজসেবক আব্দুল হাকিম, সাংস্কৃতিক কর্মী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, সাংবাদিক আমিনুল হক সিপন, সাংবাদিক আব্দুল ওয়াহিদ, সাংবাদিক শাহ ফুজায়েল আহমদ, সাংবাদিক আলী আসগর ইমন, সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলু, সংবাদকর্মী বাবুল দাশ, ছাত্রীর পিতা মজিবুর রহমান, মাতা- রুজিনা বেগমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।