প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ নভেম্বর ২০২৫
দুর্নীতির জালে সিসিক'র কর শাখা ২০ হাজার টাকার বিজ্ঞাপনে আদায় ৬০০ টাকা কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রাশেদ গংদের
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন কর আদায়ে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রাশেদুল ইসলাম ও তার সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আদর্শ কর তফসিল অনুযায়ী আলোকিত এলইডি টিভি সাইনবোর্ডের কর হার বর্গফুটপ্রতি ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও, রাশেদ গং মাত্র ৬০০ টাকা করে আদায় করছেন।
সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্তমানে এলইডি টিভির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে—
১️⃣ সিটি কর্পোরেশন পয়েন্ট
২️⃣ কীনব্রিজ পয়েন্ট
৩️⃣ জিতু মিয়া পয়েন্ট
৪️⃣ চৌহাট্টা পয়েন্ট
৫️⃣ রিকাবিবাজার পয়েন্ট
৬️⃣ মদিনা মার্কেট পয়েন্ট
৭️⃣ সুবিদবাজার পয়েন্ট
প্রতিটি বিলবোর্ডের বার্ষিক ভাড়া বর্গফুটপ্রতি ২০ হাজার টাকা হলেও, এসব জায়গায় কর আদায় হচ্ছে মাত্র ৬০০ টাকা হারে। অর্থাৎ, একেকটি বিলবোর্ড থেকেই সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু একটি কোম্পানি রাশেদ গংয়ের দাবিকৃত অতিরিক্ত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মামলা করা হয়। অন্যদিকে, যারা “চাহিত টাকা” দিতে রাজি হয়েছে, তারা নির্বিঘ্নে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অনুমোদন পাচ্ছে।
দক্ষিণ সুরমার এক বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “আমরা নির্ধারিত করের বেশি টাকা দিতে রাজি হইনি বলে আমাদের অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছে। যাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়, তারাই সব সুবিধা পাচ্ছে।”
রাশেদের বিলাশবহুল জীবনযাপন:
অভিযোগ অনুযায়ী, রাশেদুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে একই শাখায় বিজ্ঞাপন কর আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আগে আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল থাকলেও বর্তমানে তার রয়েছে বিলাসবহুল জীবনযাপন। তিনি এখন শিবগঞ্জ পয়েন্টে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন এবং প্রায়ই নতুন মোটরসাইকেল বদলান। অথচ তার মাসিক বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ক্ষতি, প্রশাসন নিরব
এত বড় অঙ্কের দুর্নীতির পরও সিসিক প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ মনে করছে, “অদৃশ্য প্রভাব” বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ডেবিল রাশেদ গং এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি—“রাশেদ গং আওয়ামী ঘরানার প্রভাবশালী একটি গ্রুপের অনুসারী। বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হতো না।” বিগত সরকারের পতন হলেও রাশেদ গংদের ক্ষমতার দাপট এখনো কমেনি বরং আরো বেপরোয়া।
সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা নিজের সম্পদ গড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন এতটা নিরব কেন? সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও রাশেদ গংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। চলবে
-
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।