উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্টাফ রিপোর্টার: মামলার কাজ এগিয়ে নিতে টাকা দিতে হবে—অন্যথায় দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলা উঠতে দেরি, দীর্ঘ তারিখ, প্রসেস প্রদানে বিলম্ব কিংবা নানা ধরনের পেশাগত অসহযোগিতা—সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক পেশকারকে ঘিরে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী, মুহুরী ও বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগের পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই আদালতে বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—এত অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আদালতের পেশকার মিজানুর রহমান। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অর্থ দাবি করা হয়। চাহিদামতো অর্থ না দিলে দায়িত্ব পালনে গড়িমসি ও পেশাগত অসহযোগিতার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে ফেলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে মামলা দৈনন্দিন কার্যতালিকায় না তোলা, দীর্ঘ তারিখ দেওয়া এবং প্রসেস প্রদানে বিলম্ব করার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে অনেক বিচারপ্রার্থী ও মামলার পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আইনজীবীদের অভিযোগ, বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে দায়িত্ব পালনের সময় তার আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে আইনজীবী, মুহুরী ও বিচারপ্রার্থীদের একটি অংশের মধ্যে।
অ্যাডভোকেট কানন আলম বলেন, পেশকার মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময় আইনজীবী, মুহুরী ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণসহ পেশাগত অসদাচরণ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “বারবার সতর্ক করার পরও তার আচরণের পরিবর্তন হয়নি। তাই তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আইনজীবী সমিতির অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দেওয়া হবে।”
তার অভিযোগ, আদালতের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে দায়িত্ব পালনে গড়িমসি ও পেশাগত অসহযোগিতা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবী মহলের একটি অংশের প্রশ্ন—একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলে তা যাচাইয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? অভিযোগগুলোর কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আগে কোনো অভিযোগ গিয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও এখন সামনে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, একজন আদালত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও দায়িত্বে অবহেলার মতো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহিয়া চৌধুরী সুহেল এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুবায়ের বখত জুবের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোর্ট-কাচারিতে কিছু পিয়ন ও পেশকারের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিয়মের অভিযোগ বেড়েছে।
তারা জানান, বিষয়গুলো আইনজীবী সমিতির আগামী সভায় আলোচনা করা হবে। পরে জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পেশকার মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখবে কি না এবং দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আদালতের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর তদন্ত না হয়, তাহলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির দায় নেবে কে?