প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাধবপুর থেকে নিখোঁজ, সিলেটে উদ্ধার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পুলিশের কাছে নেই কোনো তথ্য
সিলেট এডিশন ডেস্ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: রাত আটটায় হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে এক স্কুলছাত্রকে মাথায় আঘাত করে জোরপূর্বক হাইএস গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ। এরপর প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কোথায় ছিল সে, কারা তাকে নিয়ে ঘুরেছে এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। রাতভর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত সিলেটের শাহপরান এলাকায় জাফলং সড়কের পাশে ওই স্কুলছাত্রকে ফেলে রেখে চলে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, স্কুলছাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী গাড়িতে থাকা লোকজন নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে এখনো থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি হয়নি। এমনকি মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি পরিকল্পিত অপহরণ, নাকি অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কিশোরকে তুলে নেওয়ার ঘটনা?
উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম সৈয়দ সাদাফ। সে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে তিন থেকে চারজনের একটি দল সাদাফের মাথায় আঘাত করে তাকে জোরপূর্বক একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে বেড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাদাফের ভাষ্য, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন। তবে তারা কারা, কোথা থেকে এসেছিল কিংবা তাকে কেন তুলে নেওয়া হয়েছিল—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রাত শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে সিলেটের জাফলং সড়কসংলগ্ন শাহপরান এলাকায় তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় ওই ব্যক্তিরা—এমনটাই জানিয়েছে কিশোরটি।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের চোখে পড়ে সাদাফ। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান এবং তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মাধবপুর থেকে একজন স্কুলছাত্রকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার এমন গুরুতর অভিযোগের পরও থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি হয়নি।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “অপহরণের বিষয়টি আমি শুনিনি। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো সাধারণ ডায়েরিও করেনি।” তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাধবপুর থেকে একটি কিশোরকে তুলে নিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্য ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—সাদাফকে কারা তুলে নিয়েছিল, কেন তাকে রাতভর ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত শাহপরানে ফেলে রাখা হলো এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না?
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।