প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
দক্ষিণ সুরমায় বেকারি ও রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্টের অভিযান ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
মিজানুর রহমান:
সিলেট মহানগরীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অননুমোদিত রং ব্যবহার ও পোড়া তেলসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (সিলেট মেট্রোপলিটন কার্যালয়) এবং র্যাব-৯ এর একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
সিলেটের কদমতলী এলাকার পাঠানপাড়ায় অবস্থিত ‘ভাই ভাই বেকারি’তে অভিযান চালিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে খাবার তৈরিতে পোড়া তেল ও আয়োডিনহীন লবণের ব্যবহার এবং অননুমোদিত টেক্সটাইল কালার (কাপড়ের রং) ব্যবহারের প্রমাণ পায় মোবাইল কোর্ট। এছাড়া লেবেলবিহীন পণ্য উৎপাদন, নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে খাদ্য প্রস্তুত এবং মশা-মাছি প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্টে’ অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসাথে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া মুরগির বিষ্টাযুক্ত ডিম পরিষ্কার না করেই খাবার তৈরিতে ব্যবহার এবং ঢাকনাবিহীন নোংরা ডাস্টবিন ব্যবহারের দায়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। খাবারে ক্ষতিকর রং ও পোড়া তেলের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।