প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
চাশ্রমিক মজুরি নির্ধারণ ও পৃথক মজুরি বোর্ড গঠণ,গেজেট বাতিল,ভূমি অধিকার,নির্বাচন তফশিল ঘোষণার দাবী
সিলেট এডিশন ডেস্ক
স্মরণ সিং,মৌলভীবাজার: চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই' শত (২০০) বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনোও দুই'শত(২০০) টাকা নির্ধারণ হয়নি- চা শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও সুশীল সমাজ বিশিষ্ট ব্যাক্তিজনের অভিমত প্রকাশ। চা শ্রমিকের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন, স্বার্থবিরোধী গেজেট বাতিল, নির্বাচন তফশিল ঘোষণা ও ভূমি অধিকার নিশ্চিত দাবী এবং চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভাটি ২৩ আগষ্ট রোজ রবিবার বেলা ১২ ঘটিকায় মৌলভীবাজার পৌরসভার সম্মুখ হইতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন ব্যানারে মিছিল বের করে শহর প্রদক্ষিণ করে অত্র পৌরসভার মিলনায়তন কক্ষে সমবেত হয়ে মতবিনিময় সভা সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে চা শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে আধপেটা থেকে হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে বাগানের উৎপাদন বৃদ্ধি করছে অথচ বাগান মালিকরা লাভবান হলেও শ্রমিকদের মজুরি দিচ্ছে মাত্র ১৮৭ টাকা। এই মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালে চা শ্রমিকরা ৩০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে মালিকদের সাথে মিটিং করে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণা করেন। ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে অগণতান্ত্রিক গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেই গেজেটের মেয়াদ ৯ আগস্ট ২০২৬ শেষ হওয়ার পরদিন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে ১৯৬ টাকা মজুরি ঘোষণা করে। যা অযৌক্তিক ও চরম অগণতান্ত্রিক।
মতবিনিময় সভা থেকে চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা মজুরি বৃদ্ধির লড়াইয়ে চা বাগানে আন্দোলনরত সকলকে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাকেজুজ্জামান রতন, চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ দাস অলমিক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব জনক লাল দেশওয়ারা, চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ শুক্ল বৈদ্য সহ বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ। মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশীর সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।