প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
শ্রমের টাকা জুয়ার টেবিলে, নিঃস্ব হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে অনলাইন জুয়ার নানা প্ল্যাটফর্ম। একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে জুয়া। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে ধীরে ধীরে এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুধু তরুণ সমাজই নয়, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষের মধ্যেও অনলাইন জুয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক শ্রমজীবী মানুষ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করলেও দিন শেষে তাদের হাতে সেই অর্থ থাকছে না। উপার্জনের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন খেলায়। কেউ কেউ সামান্য লাভের আশায় শুরু করলেও পরবর্তীতে ক্ষতির টাকা তুলে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে আরও বেশি অর্থ হারাচ্ছেন।
পাড়ার আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মস্থল—অনেক জায়গাতেই এখন মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার প্রবণতা চোখে পড়ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন। সহজে টাকা পাওয়ার আশায় শুরু হলেও একসময় অনেকেই জুয়ার চক্র থেকে বের হতে পারছেন না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার প্রভাব এখন শুধু ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সমাজের ওপরও। প্রতিদিনের উপার্জন জুয়ার পেছনে ব্যয় হওয়ায় অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। কোথাও কোথাও ধার-দেনা, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক সংকট আরও প্রকট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিজ চোখে দেখা এমন কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করা অর্থ নিয়ে বাড়ি ফেরার পরও অনেকে মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলতে গিয়ে সেই অর্থ হারিয়ে ফেলছেন। পরদিন আবার নতুন করে উপার্জন করছেন, আবারও সেই অর্থের একটি অংশ বা পুরো টাকাই চলে যাচ্ছে জুয়ার পেছনে। এভাবেই অনেক শ্রমজীবী মানুষ এক ধরনের অন্তহীন চক্রের মধ্যে আটকে পড়ছেন।
সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো শুরুতে সামান্য লাভের প্রলোভন। এতে খেলোয়াড় আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। পরে ক্ষতির মুখে পড়লে হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আরও অর্থ ঝুঁকিতে ফেলেন। একপর্যায়ে এই প্রবণতা আসক্তিতে রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। বিশেষ করে তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে এর আর্থিক ও পারিবারিক ক্ষতি সম্পর্কে প্রচারণা বাড়াতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।
একজন শ্রমজীবী মানুষের সারাদিনের ঘাম ঝরানো উপার্জন যদি কয়েক মিনিটের অনলাইন জুয়ার নেশায় হারিয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিটা শুধু একজন মানুষের নয়—এর বোঝা গিয়ে পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। আর এ ধরনের ঘটনা যদি প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে, তাহলে ব্যক্তি থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে সমাজে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের সামাজিক সংকট। অনলাইন জুয়ার প্রলোভন থেকে নিজে দূরে থাকা এবং অন্যদেরও এ থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।