উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার এই চোরাচালানকে কেন্দ্র করে তরিকুল নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে আনা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, ফুচকা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস। এসব পণ্য মজুত ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক গোডাউন ও পরিবহন ব্যবস্থা।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, চালিবন্দর এলাকায় রুবেল নামের এক ব্যক্তির গোডাউন দীর্ঘদিন ধরে চোরাই পণ্য মজুতের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা জিরা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকসের বড় চালান সেখানে এনে রাখা হয় বলে অভিযোগ। দিনের বেলায় স্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা গেলেও গভীর রাতে সেখানে পণ্য ওঠানো-নামানো ও সরবরাহের তৎপরতা বাড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—চোরাই পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে ‘মেসার্স সুরমা ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের দাবি। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, তরিকুল ওই পরিবহন প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার। তবে এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরাই পণ্য বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, চালিবন্দরের পর সোবানিঘাট এলাকাতেও নতুন একটি গোডাউন ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত থেকে আসা বড় চালান মজুত এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যেই সেখানে এই নতুন আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তরিকুলের সম্পদ ও জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স সুরমা ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে চোরাচালানের অভিযোগে পরিবহন প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে ভারতীয় পণ্য আসার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য মজুতের অভিযোগ ওঠা গোডাউনগুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে তরিকুলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চোরাচালানের অর্থে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।