প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
বাহুবলে গ্রিনল্যান্ড হাউজিংয়ে মামা খন্দকার-জসিম-সেবুলদের দাপট?পাহাড়-টিলা লুট ঘিরে স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না টিলা নিধন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বাহুবল এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। গ্রিনল্যান্ড হাউজিংয়ের আওতাধীন মসজিদের পাশে একের পর এক পাহাড়-টিলা কেটে প্লট ও স্থাপনা তৈরির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব টিলা কাটা চললেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই টিলা কাটার ঘটনায় মসজিদের সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন, সেবুল ঠিকাদারসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। জসিম উদ্দিন স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরি করার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড হাউজিংয়ের মসজিদের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, হাউজিং এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এরই মধ্যে হাউজিং এলাকায় পাহাড়-টিলা কেটে কয়েকটি প্লট তৈরি করা হয়েছে। কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে ভবন। আবার নতুন করে আরও কয়েকটি প্লট তৈরির জন্য টিলা কাটার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও শুরু হয় টিলা কাটা। ফলে দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে পাহাড়-টিলার পরিমাণ, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর উঠেছে খন্দকার আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘মামা খন্দকার’ ওরফে খন্দকার কামরুজ্জামানের দিকেও। তিনি নিপবন এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জসিম উদ্দিনকে ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
জসিম উদ্দিনের আর্থিক সামর্থ্য ও সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—একজন পেট্রোল পাম্পকর্মীর আয় দিয়ে কীভাবে এত বড় স্থাপনা নির্মাণ ও সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে? স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের আয়-ব্যয়, সম্পদ ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে *দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগ সত্য হলে পাহাড়-টিলা কেটে জমি বাণিজ্য, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের অভিযান যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার কীভাবে একই স্থানে টিলা কাটার কাজ শুরু হয়? এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, কারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে থেমে গেলে হবে না। গ্রিনল্যান্ড হাউজিং এলাকায় টিলা কাটার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ভূমির মালিকানা ও প্লট তৈরির বৈধতা যাচাই, নির্মাণ অনুমোদন পরীক্ষা এবং অর্থের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাহুবলের অবশিষ্ট পাহাড়-টিলাগুলোও একসময় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।