প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
গোয়াইনঘাটে কিশোরী ধর্ষণ গর্ভপাত অভিযোগে তোলপাড়—ঘটনা আড়াল করতে টাকা ও ‘সালিস’ ঘিরে রহস্য
সিলেট এডিশন ডেস্ক
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫৫ বছর বয়সী আব্দুর রহমান ওরফে কটন আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই ঘটনার পর কিশোরীটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা এড়াতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কিশোরীকে গোপনে গর্ভপাত করানোরও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গোরাগ্রাম বরইকান্দি এলাকায়। ভুক্তভোগী কিশোরী ওই গ্রামের নৌকার মাঝি আমীর আলীর মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে আব্দুর রহমান কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বলে পরিবার দাবি করেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের সহযোগী হিসেবে তার স্বজন মছব্বির আলী, ইসলাম উদ্দিন, শালা মুশাহিদ আলী, স্থানীয় উপরগ্রামের শামীম আহমদ, ইউনুস আলীর স্ত্রী নাজমা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থের প্রলোভন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিষয়টি থানায় না নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী কিশোরীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গাইনি বিভাগের এক নার্সের মাধ্যমে একটি চিকিৎসকের বাসায় নিয়ে গিয়ে গোপনে তার গর্ভপাত করানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় উপরগ্রামের শামীম আহমদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিশোরীকে ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং গর্ভপাতের জন্য ১১ হাজার টাকা তার বিকাশে লেনদেন হয়েছে। বাকি ৪ হাজার টাকা নাজমা বেগম দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।