প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
খাদিমনগরে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান: ভেঙে দেওয়া হলো পাকা দেয়ালের ঘর
সিলেট এডিশন ডেস্ক
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সরকারি/চা-বাগানের জমি অবৈধভাবে দখল ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কেনাবেচার অভিযোগের পর প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে একটি পাকা দেয়ালের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার বর্তমান সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরান থানাধীন বহর মৌজার শেষ প্রান্তের খাদিমনগর মৌজায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদিম চা-বাগানের আওতাধীন জে.এল. নম্বর ৭১-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র চা-বাগানের জমিসহ বিভিন্ন জায়গা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কথিত ক্রয়-বিক্রয় করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, বহর কলোনির কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজনও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, হাফিজ ইসহাক উদ্দীন চৌধুরী স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের দাবি করে সেখানে একটি পাকা দেয়ালের ঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে একই এলাকায় আরও একটি খামার/স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা ও নিষেধ করা হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় জমি দখল ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। সিলেট জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রশাসন ও তফসিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি পাকা দেয়ালের ঘর ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। তবে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবারের অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, খাদিম চা-বাগান ও বহর কলোনি এলাকায় জমি দখল, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কথিত জমি কেনাবেচা এবং অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এদিকে প্রশাসনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, শুধু একটি স্থাপনা উচ্ছেদ নয়—অভিযোগের মূল উৎস চিহ্নিত করে অবৈধভাবে জমি দখল ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।