প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ফলো-আপ অন্যের বেতন আত্মসাৎ: জামায়াত নেতাকে ডাকল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর
সিলেট এডিশন ডেস্ক
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনকারী মাদ্রাসা শিক্ষককে সশরীর উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। সোমবার (৩ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কারণ দর্শানো নোটিশ করে দেয়। অফিস আদেশ জারির পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে সশরীর উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। যার টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে তিনি হলেন জুনিয়র শিক্ষক মৃত মহিউদ্দিন। একই নাম হওয়ায় তার (মৃত ব্যক্তির) ইনডেক্স ব্যবহার করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়, ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলাধীন মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমতাবস্থায় নিয়োগ-সংক্রান্ত সব মূল কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সঙ্গে নিয়ে এই নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। ,মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার ইনডেক্স নম্বর...এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর...। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালের নিয়োগে বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা শুরু করেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন। ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ওই হিসাব নম্বর থেকেই বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।