প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫
সিলেটে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বিল্ডিং নির্মাণ ও দখল বাণিজ্য! প্রশাসনের নীরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডে গ্রীনল্যান্ড খন্দকার হাউজিং এলাকায় পাহাড় কেটে অবৈধ নির্মাণসহ খাদিমনগর চা বাগানের পাশেও চলছে দখল ও টিনের ঘর তৈরির মহোৎসব।
সিলেট শহরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি টিলা ধ্বংস হচ্ছে অব্যাহতভাবে। অভিযোগ উঠেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত শাহ পরান থানা এলাকার বহর মৌজা (জে.এল. নং ৭০) বাহুবল এলাকায় গ্রীনল্যান্ড খন্দকার হাউজিংয়ের শেষ প্রান্তের পাহাড়টিলা কেটে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রীনল্যান্ড খন্দকার হাউজিংয়ের ভেতরে শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি পাহাড়টিলা কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে কেটে ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে স্থায়ী বিল্ডিং নির্মাণ কাজ শেষের পথে। পাহাড় কাটার ফলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিপূর্বে ভূমিধসে মৃত্যুর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়াও, খাদিমনগর চা বাগানের শুকতারা প্রজেক্টের পশ্চিম ও উত্তর দিকের অংশে ‘খন্দকার হাউজিং’ নামে আরও একাধিক জায়গায় অবৈধভাবে পাহাড় টিলা দখল করে টিনের ঘর নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি—এটি এখন একধরনের দখলবাণিজ্যে রূপ নিয়েছে।
আরও জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে “সবুজ প্রেসিডেন্ট” বলে পরিচয় দেন, তার বাড়ির পাশেই অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় টিলা কেটে উজাড় করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ করা স্পষ্টভাবে আইনত দণ্ডনীয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষের মনে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। প্রতিদিন পাহাড় কেটে ট্রাকে করে মাটি সরানো হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না।”
আইন ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন—সিলেটের পাহাড় ও টিলা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়, এটি ভূগর্ভস্থ জলাধার সংরক্ষণেরও মূল ভিত্তি। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শহরটি ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।