প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫
সিলেটে সরকারি খাস জমি ও পাহাড় টিলা দখল বাণিজ্য বেপরোয়া ভূমিখেকোরা!
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডটি শাহ পরান থানার অন্তর্গত বহর কলোনীর ভেতর বি আই ডিসি ও খাদিমনগর মৌজার (জে.এল. নং ৭০, ৭১) সরকারি খাস জমি, বন্দোবস্ত ও লিজকৃত চা বাগানের ভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সরকার নির্ধারিত দাগ নম্বর—১১৫৫, ১১৪২, ১৪২, ২০০১সহ একাধিক খাস চা বাগানের ভূমি উজাড় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর “বিএনপি নাম ব্যবহারকারী পাতি নেতারা” এসব সরকারি খাস জমি দখল করে দিচ্ছেন প্রভাবশালী চক্রের হাতে। অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে, তৈরি করা হচ্ছে টিনশেড ও ইটের ঘরবাড়ি। এমনকি স্টাম্পে ভুয়া দলিল দেখিয়ে বেচাকেনাও চলছে অবাধে।
এই অবৈধ কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে—সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম (পিতা মৃত নামর আলী), মানিক মিয়া (পিতা কাশেম আলী ওরফে ফেনদী), সুজন (পিতা হায়দার), কয়েছ (পিতা মৃত রুস্তম আলী), সাহেব আলী (আমিরের ছেলে), আক্কাস আলী (চৌকিদার), সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোখলিছুর রহমান (বাসিন্দা: সুরমা গেইট বাগানবাড়ি), আব্দুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী (বর্তমান ঠিকানা: বহর কলোনী), আনোয়ার হোসেন, তানিন, মামুন, রাসনা মামুন, আইয়ুব আলী মহরীল, উচমান আলী মহরীল, হাতিম আলী গাজী, শেখ রহিম বাদশা (পিতা মৃত রফিক)সহ আরও অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে—এই প্রভাবশালী মহল সরকারি খাস জমি দখল করে পাহাড় টিলা কেটে প্লট তৈরি করছে, দেয়াল তুলে ফাঁকা জায়গায় ঘর নির্মাণ করছে। এমনকি অপ্রকৃত স্টাম্পের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করছে।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউএনও অফিস একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন—দখলবাজরা রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, খাস জমি ও পাহাড় টিলা ধ্বংস হলে সিলেটের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এতে একদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের ওপর দখলদারির সংস্কৃতি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জনগণের দাবি—সরকারি খাস জমি ও পাহাড় টিলা দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।