প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
খাদিম চা বাগানের জমি উচ্ছেদের পর ফের দখলচেষ্টার অভিযোগ
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সরকারি খাস জমি, ইজারা দেওয়া চা-বাগানের জমি ও পাহাড়-টিলা দখলকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ফের দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাঁয়তারা চালিয়ে যে কোনো সময় জমি দখলের চেষ্টা করা হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাদিম চা বাগানের সাবেক ম্যানেজার শামীম কোরেশী ওরফে ‘কোত্তা শামীম’। তার সঙ্গে চৌকিদার সাঁতার, মোজাম্মেল হোসেন লিটনসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি খাস জমি ও চা-বাগানের ইজারাকৃত জমি দখল করে বিভিন্ন কৌশলে বিক্রির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা কেটে প্লট তৈরি, ফাঁকা জায়গায় দেয়াল নির্মাণ এবং ঘরবাড়ি ও ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ ও চা-বাগানের জমি বেদখলের পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েকটি স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে নির্মিত ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শামীম কোরেশী ওরফে ‘কোততা শামীম’ এবং মোজাম্মেল হোসেন লিটনের নামও রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অভিযুক্তরা ফের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মামলা দায়ের করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, জমি দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন করে মামলা দায়ের ও বিভিন্ন কৌশলে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস জমি, চা-বাগানের ইজারাকৃত জমি ও পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অবৈধ দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম কোরেশী ওরফে ‘কোত্তা শামীম’, মোজাম্মেল হোসেন লিটনসহ অন্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।