প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫
জৈন্তাপুরে ডেবিল বেনডিস করিম ও তরিকুলের নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় চোরাইপণ্যে
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুরে ভারতীয় চোরাইপণ্যের রমরমা ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ী করিম আহমদ ওরফে বেনডিস করিম এখন এই অবৈধ চোরাইপণ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে সহযোগিতা করছে পুলিশের লাইনম্যান তরিকুল ইসলাম তারেক।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি হরিপুরে সেনা সদস্যদের ওপর চোরাচালানিদের হামলা ও গ্রেপ্তারের পর সিলেট অঞ্চলে চোরাচালান চক্র নড়েচড়ে বসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় জৈন্তাপুর উপজেলার সদর বাজার এবং দরবস্ত বাজার এলাকায় ভারতীয় চোরাই পণ্য পাচার ও বিক্রির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাচার হয়ে আসছে। এসব পণ্য মজুদ করে বাজারজাত করা হচ্ছে বেনডিস করিমের আড়তে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লাইনম্যান তরিকুল এর সহযোগিতায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে করিমের আশ্রয়ে চোরাইপণ্যের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
জৈন্তাপুর বাজারের একাধিক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “করিমের অনুমতি ছাড়া বাজারে কোনো ভারতীয় পণ্য বিক্রি করা যায় না। তিনি চোরাইপণ্যের ‘বড় কর্তা’ হিসেবে পরিচিত।”
প্রসঙ্গত, করিম আহমদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং নিজেকে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চোরাচালান ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বলে জানা গেছে। তবে এখন আগের মতো প্রভাব নেই।
আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর লাইমলাইটে আসেন তরিকুল ইসলাম তারেক। তিনি প্রশাসনের লাইনের পুরো নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিজিবি ও পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত। তিনি জৈন্তাপুর থানস প্রশাসনকে ম্যানেজ করছেন।
এব্যপারে জানতে বেন্ডিস করিমের মুঠেফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এখন আমার আরতে কোন চোরাচালানের পণ্য নেই। পুলিশ ও বিজিবি'র লাইনম্যান কে জানতে চাইলে বলেন বিজিবি'র বিষয়ে জানিনা, তনে পুলিশের লাইনম্যান কে যেন আছে নাম মনে পড়ছেনা।
চোরাচালানের লাইনম্যান বিষয়ে জানতে তরিকুল ইসলাম তারেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে ওয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অবিলম্বে ভারতীয় চোরাইপণ্য নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।