প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
পাল্লায় অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন
সিলেট এডিশন ডেস্ক
আমীর হোসাইন শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সুনামগঞ্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য।
আবেদনকারী হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাস এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলমাছ মিয়া। আবেদনে তারা অভিযোগ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ পাওয়া ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অনিয়ম, জালিয়াতি ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, রাস্তা নির্মাণ, ঘটলা নির্মাণ, কালভার্ট, নলকূপ স্থাপন, গোলপোস্ট নির্মাণ, সেলাই মেশিন, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লাইব্রেরির আসবাবপত্র ক্রয়, রিং স্ল্যাব বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ মোট ১২টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেখানো হলেও অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যাটারি, আইপিএস, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ পরিষদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মসৃজন কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার দাবিও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষ চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে সার ও বীজ সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, “সব টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা মহিলা সদস্যসহ তিনজনের ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।” তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত স্থানে পানি থাকার কারণে কাজ না হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বজনের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে নলকূপ স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “এ বিষয়ে আদালতের মামলার কপি আমরা এখনো পাইনি। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে অনিয়ম ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।