প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
আলোচনায় পারবেজ-রগু, উঠছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি"
সিলেট এডিশন ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের কালিঘাট বাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয়দের আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পারবেজ ও রগু তালুকদারের নাম। স্থানীয়দের দাবি, ৫ বছর আগেও যিনি সাধারণ শ্রমিক হিসেবে গাড়ী লোড-আনলোড করতেন সেই রগু কিভাবে আলাদিনের ছেরাগ পেয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর কালিঘাট বাজারের কয়েকটি নির্দিষ্ট গুদামে খালাস করা হয়। পরে সেখান থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা অঞ্চলে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, এই সরবরাহ ব্যবস্থার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে এবং সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে পারভেজ ও রগু তালুকদারের নাম স্থানীয়ভাবে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কালিঘাট বাজারের কয়েকজন বৈধ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নিয়ম মেনে শুল্ক ও কর পরিশোধ করে আমদানি করা পণ্যের সঙ্গে অবৈধভাবে আনা পণ্যের প্রতিযোগিতায় তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে একদিকে বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পণ্যের প্রবাহ চলতে থাকলে বৈধ ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও নাজুক হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্ত দিয়ে যদি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তা কীভাবে সংশ্লিষ্ট নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে বাজার পর্যন্ত পৌঁছায়? এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কেন বড় পরিসরে দৃশ্যমান অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না—এ প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, বাজারের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আরো জানান, সোবহানীঘাট ও বন্ধরবাজার ফাড়িঁ থাকা সত্বেও তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কিভাবে ভারতীয় অবৈধ পণ্যে কালিঘাটে প্রবেশ করে সেই প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে| একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে দুই ফাড়িঁর আইনিকে বড় অংকের বখরা দিয়ে ম্যানেজ করেই চলছে পারভেজ-রগুর এই অবৈধ চোরাচালান বাণিজ্যে|
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পারভেজ ও রগু তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ ব্যপারে বন্দরবাজার ফাড়ির আইসি ও সোবহানীঘাট ফাড়ির আইসির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা এই প্রতিবেদককে বলেন এসএমপির মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করুনবলে দায়সারেন|
তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কালিঘাট বাজারকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে যে অভিযোগগুলো উঠে আসছে, সেগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।