প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
‘লাইনম্যান’ রবিউলকে ঘিরে নানা অভিযোগ (১ম পর্ব)
সিলেট এডিশন ডেস্ক
#স্থানীয়দের দাবি সপ্তাহভিত্তিক বখরা আদায় #জুয়ার আসর -১,১০,০০০/এক লক্ষ দশ হাজার# মাদক-৮০,০০০/ হাজার # ফামেসী -৩০,০০০/ হাজার# ভাঙ্গারী- ৩০,০০০/হাজার # অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস আইসির
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর উত্তর সুরমা ও কোতোয়ালী থানাধীন লামাবাজার ফাঁড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর অভিযান ও নজরদারির অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘাসিটুলা, মোকামবাজার, কানিশাইল, কেয়াঘাট, বাগবাড়ী, রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শিলং তীর ও জান্ডিমুন্ডু নামের জুয়ার আসর নিয়মিত বসছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামাবাজার ফাঁড়িতে নতুন ইনচার্জ (আইসি) যোগদানের পর প্রথমদিকে কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রবিউল নামে এক ব্যক্তি, যিনি স্থানীয়ভাবে পুলিশের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত। একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাদের দাবি, সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লামাবাজার ফাঁড়ির নবাগত আইসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “কারা জুয়ার আস্তানা পরিচালনা করছে এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে টাকা আদায় করছে, তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে আজই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি লাইনম্যানদের সতর্ক করার পর রবিউল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উত্তর সুরমার ঘাসিটুলা মোকামবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে শামিমাবাদ, মনিকা সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকা, বাগবাড়ী, রিকাবীবাজার, কোয়ারপাড়, খুলিয়াপাড়া, কানিশাইল, কেয়াঘাট ও শেখঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু জুয়াই নয়, কয়েকটি এলাকায় মাদক ব্যবসাও প্রকাশ্যে চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ঘাসিটুলা, কানিশাইল ও সরষপুর এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।তাদের দাবী সপ্তাহে পুলিশের নামে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা বখরা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “জুয়া ও মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।” তারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কামরুল হাসান জুলহাস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।