উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিলেট সিটি কর্পোরেশন বাছিত, বাবলু, কবির সিন্ডিকেট দূর্নীতির নতুন খেলায় মেতে উঠেছে বলে নাগর জুড়ে সোরগোল।
ঘটনার বিবরনে প্রকাশ সিসিকের চীফ এসেসর আব্দুল বাছিত, এসেসর আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরী সিন্ডিকেট দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ সিন্ডিকেট এসেসমেন্ট শাখায় তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে বাড়ী গাড়ি, জায়গা জমি সহ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। ইতিপূর্বে এ নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ প্রচার হলে একটি দায়সারা তদন্ত কমিটি গঠন করে লোক দেখানো তদন্ত শুরু করে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এ সিন্ডিকেট ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তদ্বির সহ অদৃশ্য খেলায় মেতে উঠে। ফলে এসব দূর্নীতির তদন্ত চাপা পড়ে যায়। বাছিত চক্র বর্তমানে আবার দূর্নীতির নতুন পথ বেছে নিয়েছে। এচক্রটি সিসিকের বর্ধিত এলাকায় কর নির্ধারনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ অর্থ। এসেসমেন্ট শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান সিসিকের আয় বৃদ্ধির কথা বলে সিসিক কতৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বর্ধিত এলাকার বড় বড় ভবনগুলোতে নিরবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। বাছিত চক্র এসব বর্ধিত এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দ্বায়িত্ব দিয়েছে নিজস্ব আত্মীয় স্বজন ও বিশ্বস্ত কর্মচারীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান যেসব কর্মচারী মাঠ পর্যায়ের বর্ধিত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন তারা এ সিন্ডিকেটের বিশ্বস্ত। তার মধ্যে আলী রেজা সাজু, শাওন দত্ত, জ্ঞানার্জন সিংহ, রাজু ক্ষত্রিয় সহ দূর্নীতিবাজদের নতুন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রাজু ক্ষত্রিয়সহ কয়েকজন পূর্বতন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান খানের নির্দেশে দূর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন দায়িত্বহীন ছিল।
মতিউর রহমান খান বদলি হওয়ার পর এসব দূর্নীতিবাজ মাঠ কর্মচারীদের নতুন বর্ধিত এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়ে এ সিন্ডিকেট তাদের মাধ্যমে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে যারা কর কমানোর আপত্তি দাখিল করতে আসেন তাদেরকে ভূয়া ব্যাংক ঋণের কাজ দেখিয়ে সর্বনিম্ন হারে কর নির্ধারণ করে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ অর্থ। এসেসমেন্ট শাখার ভুক্তভোগী এক কর্মচারী জানান নতুনএলাকায় কর ধার্য করার ক্ষেত্রে প্রচার প্রচারণা করে সকলকে অবগত করে কর নির্ধারনের কথা থাকলেও এবং প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের করদাতাদের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পৃথক রিভিউ বোর্ড গঠন করে আপত্তি সর্বসম্মুখে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও এ সিন্ডিকেট কতৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে চুপিসারে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অত্যন্ত গোপনীয়তার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের ফলে করদাতাদের নিজস্ব লোকদের দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে গোপনে রিভিউ নাটক করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ঐ কর্মচারী জানান রিভিউ বোর্ড একটি আইনী প্রক্রিয়া। বিধি অনুযায়ী এসব বোর্ডে জনপ্রতিনিধি সম্পৃক্ত থাকার কথা থাকলেও এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য আলাদা বোর্ড গঠন করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। কিভাবে এ বোর্ড পরিচালনা করা হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না। এ সিন্ডিকেট অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এসব কার্যক্রম করায় জনমনে সন্দেহ রয়েছে। এ সিন্ডিকেট প্রথমেই বড় অংকের করের অবগতির পত্র করদাতাদের ধরিয়ে দেয়। তারপর ভোক্তভোগীকে তাদের জালে ফাসিয়ে জাল ঋনের কাগজ দেখিয়ে সর্বনিম্ন হারে কর নির্ধারণ করে দিয়ে হাতিয়ে নেয় বিপুল অংকের টাকা।
বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চললেও সিসিক কতৃপক্ষ নির্বিকার। আর এ সুযোগে আবদুল বাছিত, আকতার সিদ্দিকী বাবলু, ও কবির উদ্দিন চৌধুরী সিন্ডিকেট সিসিকের রাজস্ব আহরনের সুযোগ নষ্ট করে আত্মীয় স্বজন ও বিশ্বস্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে দূর্নীতির সিন্ডিকেট করে নিজেরা ফুলে ফেঁপে উঠছে আর সিসিকের অর্থনীতির মূল হাতিয়ার রাজস্ব বিভাগকে করছে পঙ্গু। ভুক্তভোগী নাগরিকরা তাই সিসিক প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করে বলেন প্রশাসক নগর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করলেও শর্ষের মধ্যে ভূত রেখে সুন্দর নগরী গঠনের তার আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।